বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

কোরিয়ান বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখার অনুরোধ

স্টাফ রিপোর্টার | ৯ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার আবাসিক রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলে এ আহ্বান জানান তিনি।

পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বাংলাদেশে চতুর্থ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ও হুন্দাইসহ প্রায় শতাধিক কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনা করছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে বর্তমানে অত্যন্ত অনুকূল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে।

তিনি বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল, ইলেক্ট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, তৈরি পোশাক এবং অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ আরও বাড়াতে নতুন রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।

দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের ৯৫ শতাংশ পণ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। এ জন্য তিনি দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরও অন্তত আরও চার বছর এ সুবিধা অব্যাহত রাখার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি অনুরোধ জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা) স্বাক্ষরের বিষয়ে চলমান অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি কোরিয়া-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন এবং এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ কোরিয়াকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটির ঋণ সহায়তা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন শিল্প খাতে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে তার দেশ গভীরভাবে আগ্রহী। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন।

এর আগে বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল রাষ্ট্রদূতকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিবগণ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।