স্টাফ রিপোর্টার | ৮ নভেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতি যতটা না ক্ষতি করেছে, বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রয়োজন।
আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় বিচারকদের জন্য ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ বিষয়ক তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনীর মতো কোনো রায় যখন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ধ্বংস করে দেয় এবং দেশকে ফ্যাসিবাদের পথে ঠেলে দেয়, তখন সেটিকে কেবল আর্থিক দুর্নীতির ফল বলা যায় না। বরং এ ধরনের রায় বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির ফসল।
তিনি আরও বলেন, যারা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ও দুর্নীতিগ্রস্ত এবং যারা সুপ্রিম কোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা উচিত। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বলাও প্রয়োজন।
দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজের বিভাজন তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের সমাজ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ নীরব হয়ে বসে আছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে যারা নিহত হয়েছেন কিংবা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাঁদের বিষয়ে তাঁরা কিছুই বলছেন না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারকদের বিরুদ্ধে জনমনে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এই ধারণা দূর করার দায়িত্ব যেমন সরকারের রয়েছে, তেমনি বিচারকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাঁরা কী ভূমিকা পালন করবেন, তা তাঁদের বিবেকের বিষয়।
তিনি বলেন, বিচারকদের মনে রাখতে হবে, তাঁরা যে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তার মর্যাদা ও স্বাতন্ত্র্য রয়েছে। তাঁদের প্রতিযোগিতা সচিবদের সঙ্গে নয়। প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীদের সঙ্গে নিজেদের মেলানোর চেষ্টা করলে ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায় এবং ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ব্যত্যয় ঘটবে। বিচারকেরা প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
সংবিধান সংশোধনে টিআইবির যেকোনো জনকল্যাণমুখী প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো হবে উল্লেখ করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে লিখিত সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।
এদিকে, অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে সরকার যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় আইন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকলেও বিষয়টি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত। আবেগ দিয়ে নয়, বরং আইন অনুযায়ীই বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তির শর্ত অনুসারে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র রুল অব ল, জাস্টিস ও সিকিউরিটি অ্যাডভাইজর রোমানা শোয়েগার বক্তব্য দেন।





