✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮

সমবায় সমিতিকে দুর্নীতিমুক্ত ও সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পণ্য বাজারজাতকরণে কার্যকর উদ্যোগ এবং সমবায় আইন যুগোপযোগী করার তাগিদ

স্টাফ রিপোর্টার | ৮ নভেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: সমবায় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করতে সমবায় সমিতিগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং সমবায়-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, দুর্নীতির কারণে দেশের অধিকাংশ সমবায় সমিতির কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি সমিতি সফলভাবে কাজ করছে। সমবায় আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হলে প্রথমেই সংগঠনগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯০৪ সালে সমবায় আন্দোলনের সূচনা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ আন্দোলন দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সমবায়কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগের সঙ্গে সমবায় আন্দোলনকে সম্পৃক্ত করে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ষাটের দশকে বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ড. আখতার হামিদ খানকে পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে জিয়াউর রহমান তাঁকে বার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে সমবায় আন্দোলন আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সমবায় উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উল্লেখযোগ্য অবদান ও বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে সমবায় খাত আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অতীতের সফল সমবায় কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমবায়ের সেই অবস্থান এখন আর নেই। ধীরে ধীরে সমবায় আন্দোলন পিছিয়ে পড়েছে। আগের মতো এ আন্দোলনের প্রতি গুরুত্ব ও মনোযোগও দেখা যাচ্ছে না।

সমবায় খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের উপযোগী করে বিদ্যমান আইন সংশোধন এবং যুগোপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দেশের এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সমবায় সমিতিগুলো যেন টিকে থাকতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে এনজিও কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়েছে। এর প্রভাবেও সমবায় আন্দোলন পিছিয়ে পড়েছে। ফলে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সমবায় সমিতিগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

সমবায় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের যথাযথ বাজারজাতকরণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমবায় অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিতে পারে। সমবায়ভিত্তিক কোম্পানি গঠন করে এসব পণ্য বাজারজাতকরণে সমিতিগুলোকে সহযোগিতা করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, দেশে এ ধরনের উদ্যোগের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। পণ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি দূর করা জরুরি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সমবায়ের মূল ধারণা হচ্ছে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করা। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সম্মিলিতভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

সফল সমবায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সম্প্রতি বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছিল। সেখানে অত্যন্ত চমৎকার কাজ হচ্ছে। আজকের অনুষ্ঠানেও কয়েকটি সফল সমবায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও অগ্রগতি দেখে তিনি আনন্দিত হয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠান সত্যিকার অর্থেই প্রশংসনীয় কাজ করছে।

সমবায়ীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সমবায়ীরা এখনো আন্দোলনটিকে ধরে রেখেছেন। তবে শুধু ধরে রাখলেই হবে না, এটিকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য সমবায় আন্দোলনকে ব্যাপকভাবে দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবদুস সালাম।

স্বাগত বক্তব্য দেন সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক সেলিম ফকির।

সমবায় অধিদপ্তর আয়োজিত এবারের সমবায় দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘করবো সমবায়, গড়বো দেশ। সবার জন্য বাংলাদেশ’।

অনুষ্ঠানে সফল সমবায়ীদের হাতে পুরস্কার ও ক্রেস্ট তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে তিনি বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।