স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ইজানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
বিদেশি কিংবা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি অভিযোগ করেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও একাধিক ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে গুন্ডামি করছেন এবং কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
এক প্রতিক্রিয়ায় আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা দেখেছি—অনেকে নির্বাচন কমিশনে ২০০ থেকে ৩০০ লোক নিয়ে যাচ্ছেন। শত শত আইনজীবী একসঙ্গে হাজির করে কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের ভেতর থেকেও নানা ধরনের ব্যাখ্যা, ফাঁকফোকর ও ইন্টারপ্রেটেশনের মাধ্যমে এসব প্রার্থীদের বৈধতা দেওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার ভাষায়, “এটি দেশের সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি গণতন্ত্রের জন্য একটি অশনি সংকেত।”
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “বিএনপি নিজেদের গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক দাবি করে। কিন্তু তাদের কার্যক্রমে আমরা সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখি। তারা বাংলাদেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “যারা এই দেশকে বিভিন্ন সময়ে লুট করে বিদেশে নাগরিকত্ব নিয়েছে, বিদেশে বাড়িঘর ও সম্পদের পাহাড় গড়েছে—তারাই আবার নির্বাচনের সময় দেশে ফিরে এসে জনপ্রতিনিধি হওয়ার চেষ্টা করছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এই প্রবণতা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না।”
আসিফ মাহমুদ বলেন, “আপনি যদি জনপ্রতিনিধি হতে চান, তাহলে আগে এককভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হন। আমরা কোনো বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশের নির্বাচন করতে দেব না।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি সংবিধান লঙ্ঘন করে, কিংবা কোনো ধরনের ব্যাখ্যা বা ফাঁকফোকরের মাধ্যমে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা বৈধ করার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে একযোগে আইনি লড়াই ও রাজপথের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রথম দিন থেকেই আমরা কমিশনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে আসছি। তাদের অনেক ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও আমরা সময় দিয়েছি, সুযোগ দিয়েছি—যাতে তারা সেগুলো সংশোধন করতে পারে।”
তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের নির্বাচনে সুযোগ দেওয়ার যে আলোচনা শোনা যাচ্ছে, তার পর আর কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানান তিনি।




