বিদ্যুৎ ও জ্বালানি গবেষণায় পৃথক ইনস্টিটিউশন গঠনের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৬–২০৫০ উপস্থাপন; পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে জোর

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার | ৮ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে গবেষণার জন্য একটি পৃথক ও শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে না রেখে একটি স্বাধীন কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হতে হবে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সরকারকে নীতিনির্ধারণে সহায়তা করবে।

বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত মহাপরিকল্পনা ২০২৬–২০৫০’ উপস্থাপন করে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য হিসেবে জানানো হয়—দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত দায়বদ্ধতার মাধ্যমে দেশের সকল মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

সভায় আগের তিনটি মহাপরিকল্পনার নীতিগত ঘাটতি চিহ্নিত করে তা পর্যালোচনা করা হয়। নতুন মহাপরিকল্পনাটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে—প্রথম ধাপ ২০২৬–২০৩০, দ্বিতীয় ধাপ ২০৩০–২০৪০ এবং তৃতীয় ধাপ ২০৪০–২০৫০ সাল।

২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে ফার্স্ট ট্র্যাক প্রায়োরিটি প্রকল্প হিসেবে অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান, গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, এলএনজি সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, রিফাইনারি সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে অফশোর গ্যাস উন্নয়ন, বৃহৎ পরিসরে রিফাইনিং ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প সম্প্রসারণ, হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়া অবকাঠামো উন্নয়ন, ভূ-তাপীয় শক্তি এবং জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্র তরঙ্গভিত্তিক শক্তি উন্নয়ন।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। এই খাত শক্তিশালী হলে দেশের অর্থনীতিও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। প্রতিটি মানুষের জীবন এই খাত দ্বারা প্রভাবিত।”

তিনি অতীতের পরিকল্পনাগুলোকে খাপছাড়া উল্লেখ করে বলেন, একরকমভাবে হয়ে আসছে বলেই সেই পথ অনুসরণ করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ভুল লোকেশন ও ভুল কাঠামোর পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে জন্য গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি।

মন্ত্রণালয় জানায়, মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদা ১৭ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ৫৯ গিগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। পরিচ্ছন্ন ও দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ ০.৬২ থেকে কমে ০.৩৫ টন CO₂/মেগাওয়াট-ঘণ্টায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু উদ্যোগের মাধ্যমে বার্ষিক ৬৪.৫ মিলিয়ন টন এবং মোট ১,৬০০ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।

মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কুইক রেন্টাল আইন বাতিল, মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫, রিনিউয়েবল এনার্জি পলিসি ২০২৫, রুফটপ সোলার প্রোগ্রাম ২০২৫ এবং নেট মিটারিং গাইডলাইন ২০২৫ গ্রহণ করা হয়েছে।

মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬–২০৫০ সময়ে জ্বালানি খাতে ৭০–৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ১০৭.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।