ঢাকা, ২৯ আগস্ট ২০২৬, নিউজ চ্যানেলিবিডি : আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নৌকাবাইচের স্থান নিয়ে তথ্যগত ভুলের কথাও স্বীকার করা হয়েছে।
বক্তব্যে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে সেখানকার আলেম-ওলামাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের একটি কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল, বাস্তব পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে একটি মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
বক্তব্যে দাবি করা হয়, ঘটনার ধারাবাহিকতা থেকে স্পষ্ট যে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেননি। তারা শুধু শব্দ কমানোর কথা বলেছিলেন। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ, এমন ধারণা সঠিক নয়।
তবে নৌকাবাইচের ঘটনাটি উল্লেখ করতে গিয়ে তথ্যগত ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করা হয়। সিলেটের জায়গায় ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম বলা হয়েছিল। এ ঘটনায় সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
বক্তব্যে বলা হয়, সংসদে মূল ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং গণমাধ্যমের উপস্থাপন নিয়ে আরও বিস্তারিতভাবে কথা বলা উচিত ছিল। তবে সম্পূরক প্রশ্নের সময়সীমার কারণে বিস্তারিত বলার সুযোগ হয়নি।
একই সঙ্গে জুলাইয়ের আদর্শের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়, জুলাই এমন একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ নিজের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, মতের ভিন্নতা ও বিতর্ক থাকবেই, তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যকে জোর করে নিজের মত চাপিয়ে দিতে পারবে না। সরকারকে সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং কেউ অন্যায়ভাবে কারও অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করতে হবে।
সরকার যখন এ দায়িত্ব পালনে দ্বিধা করে বা ব্যর্থ হয়, তখন দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশ সবার। এই দেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট ও মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে এবং বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে।
‘যার যেটা পছন্দ হবে, সে সেটিতে অংশ নেবে। যার পছন্দ হবে না, সে সেখানে যাবে না। তবে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে,’ বক্তব্যে এমন মন্তব্য করা হয়।
সবশেষে বলা হয়, জুলাই ছিল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিনির্বিশেষে সকল মানুষের আন্দোলন। এটি মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে একটি সর্বজনীন সমাজ গড়ে তোলার আন্দোলন। সেই বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।





