ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশপন্থী শক্তিকে প্রতিষ্ঠার ডাক ইশরাকের

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কোনো আপস নয় বলে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক । তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমেই বাংলাদেশপন্থী শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি রাজধানীর ওয়ারীতে ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের পরিচিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, যারা বাংলাদেশকেই চায়নি, তারা আবার রাজনীতিতে ফিরে এসে ভোটের মাঠে নামছে। শুধু তাই নয়, তারা মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করেছিল, যা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বড় ও মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল (বিএনপি)

তিনি বলেন, ওই সময় তিনি কারাগারে থাকলেও সংবাদপত্র, ভিডিও ও বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিন্তু যারা আজ মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করছে, তাদের কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা তিনি দেখেননি।

ইশরাক হোসেন আরও বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার দুঃসাহস কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, তারা স্বাধীন বাংলাদেশকেই অস্বীকার করে। এই বক্তব্য যদি রাজনৈতিক বয়ানে পরিণত হয়, তবে তা আর দুর্ঘটনা নয়, বরং বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।

বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটি এখন একটি সংবেদনশীল অঞ্চলে অবস্থান করছে, যেখানে দেশি-বিদেশি নানা শক্তি নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তবে একমাত্র এজেন্ডা হবে—সবার আগে বাংলাদেশ।

তিনি জানান, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সমান নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রয়োজনে দেশ রক্ষার জন্য নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সভায় তিনি মরহুমা -এর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং -এর নেতৃত্বে দেশ গঠনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কে এম কামরুজ্জামান নান্নুসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।