মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ

টানা শুনানি শেষে শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ, খালাস চেয়েছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার | ২২ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার | নিউজ চ্যানেল বিডি

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষ হয়েছে।

টানা পাঁচ দিন প্রসিকিউশন পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে, বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এ আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন টানা তিন দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
তিনি যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন জানান।

এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম।
রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ।

ঐতিহাসিক এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
এছাড়া স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।
মোট ৫৪ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল–১।
পরে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়। তিনি এরপর আদালতে বিস্তারিত সাক্ষ্য দেন।

এই মামলার পাশাপাশি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা চলছে।
এর একটি আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগে, আরেকটি ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা।

গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমন অভিযানে আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার, প্রশাসনের একাংশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচার এখন দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে।