স্টাফ রিপোর্টার, ১ জুন ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬’। এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’। দিবসটি উপলক্ষে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশু-কিশোরদের সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তামাকে বিদ্যমান নিকোটিন মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টি করে। বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা, গুলসহ যেকোনো তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগসহ নানা অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে, যার অন্যতম ঝুঁকির কারণ তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫-এর তথ্য বলছে, দেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্যব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতিতে বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়।
শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান এবং শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাক বিক্রি বন্ধ করা গেলে শিক্ষার্থীদের তামাকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
এছাড়া ১৮ বছরের নিচে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবনও আইনত নিষিদ্ধ। তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন বন্ধে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইন্টারনেট, অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, নাটক ও সিনেমাসহ সব মাধ্যমেই তামাকের প্রচারণা নিষিদ্ধ রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন প্রজন্মকে তামাকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করতে আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। তামাকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।





