শুল্ক কমায় মোবাইল ফোনের দাম কমছে, কোন ফোনে কতটা স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা

আমদানিকৃত ও দেশে সংযোজিত ফোন—দুই ক্ষেত্রেই দামের বড় পার্থক্য আসার ইঙ্গিত

স্টাফ রিপোর্টার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য স্বস্তির খবর। চলতি অর্থবছরে মোবাইল ফোন আমদানির ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে আমদানিকৃত ও দেশে সংযোজিত—উভয় ধরনের স্মার্টফোনের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কী ধরনের শুল্ক কমানো হয়েছে

সরকারের ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—

  • পূর্ণাঙ্গ (CBU) মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
  • দেশে সংযোজিত (Local Assembled) মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর ফলে আমদানিকৃত ফোনে শুল্ক প্রায় ৬০ শতাংশ এবং দেশে সংযোজিত ফোনের যন্ত্রাংশে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

দাম কতটা কমতে পারে

বাজারসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, শুল্ক কমানোর সরাসরি প্রভাব পড়বে ফোনের খুচরা দামে। বিশেষ করে—

  • ৩০ হাজার টাকা বা তার বেশি মূল্যের আমদানিকৃত স্মার্টফোনে দাম ৪,৫০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে
  • দেশে সংযোজিত মধ্যম ও বাজেট ফোনে দাম প্রায় ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে চূড়ান্ত দাম নির্ভর করবে আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের মূল্য নির্ধারণের ওপর।

কোন ব্র্যান্ডের ফোনে প্রভাব বেশি

বিশ্লেষকদের মতে, যেসব ব্র্যান্ডের ফোন সরাসরি বিদেশ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে আমদানি করা হয়, সেগুলোতেই দামের প্রভাব তুলনামূলক বেশি দেখা যাবে। অন্যদিকে দেশে সংযোজিত জনপ্রিয় বাজেট ও মিড-রেঞ্জ স্মার্টফোনেও সীমিত হলেও দাম কমার সুবিধা পাবেন ক্রেতারা।

কেন এই সিদ্ধান্ত

সরকারের উদ্দেশ্য হলো—

  • স্মার্টফোনকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা
  • অবৈধ ও অনানুষ্ঠানিক আমদানি নিরুৎসাহিত করা
  • বৈধভাবে আমদানি ও স্থানীয় সংযোজন শিল্পকে উৎসাহ দেওয়া

সব মিলিয়ে, শুল্ক হ্রাসের এই সিদ্ধান্ত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মোবাইল ফোন বাজারে প্রতিফলিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।