নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
সরকারের কাছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় সম্পর্কিত সুপারিশ দিতে যাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সুপারিশ হস্তান্তর করা হবে।
আজ সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে কমিশনের সমাপনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস বৈঠকে বলেন,
“এগুলো মহামূল্যবান সম্পদ। জাতি হিসেবে আমরা কোন প্রেক্ষাপটে কী প্রক্রিয়ায় কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছালাম, তা সংরক্ষণ করতে হবে। সব বৈঠকের ছবি, ভিডিও ও চিঠিপত্র ইতিহাসের অংশ হিসেবে রেখে দিতে হবে—যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এগুলো থেকে শিক্ষা নিতে পারে।”
তিনি আরও বলেন,
“এই দলিলগুলো ভবিষ্যতের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। যারা গবেষণা করতে চান, তারা যেন এই নথিগুলো কাজে লাগাতে পারেন।”
বৈঠকে কমিশন সদস্যরা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অন্যান্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন,
“জাতীয় ঐকমত্য কমিশন একটি স্থায়ী, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপনের জন্য কাজ করেছে। রাজনৈতিক দল, আইনজ্ঞ, বিচারপতি, শিক্ষাবিদসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি মূল দায়িত্ব—বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। কমিশনের দায়িত্ব ছিল সংস্কারের রূপরেখা তৈরি করা। রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের সহযোগিতা করেছে এবং সংলাপে আন্তরিকভাবে অংশ নিয়েছে।”
বদিউল আলম মজুমদার, নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান, বলেন—
“জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারের নিবিষ্টতা ও সাহসিকতা প্রয়োজন। গণ-অভ্যুত্থানে যাদের জীবন উৎসর্গ হয়েছে, তাদের স্মরণে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।”
বিচারপতি এমদাদুল হক বলেন,
“গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর যে ঐক্য দেখা গেছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে কমিশনের বৈঠকগুলোতেও। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।”
সফর রাজ, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান, বলেন—
“প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলো ধৈর্যের সঙ্গে একসাথে আলোচনায় বসেছে। ভবিষ্যতেও এই সৌহার্দ্য বজায় থাকুক—এটাই প্রত্যাশা।”
ড. ইফতেখারুজ্জামান, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান, বলেন—
“জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পাশাপাশি দুদক সংস্কারেও সরকারকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।”
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন,
“যত শহিদ পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে, সবাই বলেছেন—সংস্কার নিশ্চিত না হলে তাদের সন্তানের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে। জুলাইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন, তারাই এই প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি।”
আগামীকাল দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ হস্তান্তর করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।





