সংস্কারে ‘হ্যাঁ’ বললে দেশের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে: অর্থ উপদেষ্টা

১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটকে গণতন্ত্র, সুশাসন ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন অর্থ উপদেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

অর্থ উপদেষ্টা বলেছেন, বাংলাদেশ বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজ একটি সন্তোষজনক অবস্থানে পৌঁছেছে। একসময় বাংলাদেশকে নিয়ে বলা হতো—এই দেশ টেকসই হবে না, এগোতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবে সেই সব ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এটি কোনো একক ব্যক্তির সাফল্য নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে অনেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রায় একই পর্যায়ে ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে দক্ষিণ কোরিয়া ও কয়েকটি দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের সেই সম্ভাবনা থাকলেও নানা কারণে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। এখন সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশ ছিল নানা সংকটে—বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া, বিনিময় হার অস্থিতিশীলতা, খাদ্য মজুদের সমস্যা এবং সর্বোপরি দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার অভাব। তিনি বলেন, এত সম্পদ ও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক খাত থেকে অর্থ পাচার এবং দুর্নীতি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা। এর মধ্যে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যেই ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সংস্কার কোনো একদিনে সম্পন্ন হওয়ার বিষয় নয়। কিছু সংস্কার ইতোমধ্যে করা হয়েছে, কিছু আংশিক সফল হয়েছে এবং বাকি কাজ সামনে এগিয়ে নিতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নিয়ে সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণ। বিশেষ করে নারী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। অতীতে রাজনৈতিক বন্দোবস্তে সাধারণ মানুষকে পাশ কাটিয়ে অল্প কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি লাভবান হয়েছেন, যা দেশের জন্য কাম্য নয়।

গণভোট প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সংস্কারের প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বলার পক্ষে তিনি কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখেন না—বরং সংস্কারে সমর্থনই দেশের স্বার্থে জরুরি। জনগণ সংস্কারে সমর্থন দিলে ভবিষ্যতে যারা দায়িত্বে আসবেন, তারা জনগণের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বাধ্য হবেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন তা সম্পূর্ণভাবে জনগণের সিদ্ধান্ত। তবে সংস্কারের ক্ষেত্রে জনগণের সমর্থন দেশকে আরও দ্রুত সামনে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।