স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ই জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একসঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত হয় এবং পরবর্তীতে পাঁচ দফা দাবিতে মাঠে-ময়দানে একাধিক কর্মসূচি পালন করা হয়। সর্বশেষ এসব দলের মধ্যে নির্বাচনী আসন সমঝোতার প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী নেতা আহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, আসন সমঝোতার লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর পক্ষ থেকে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে প্রত্যেক দল তাদের নিজ নিজ প্রস্তাব উপস্থাপন করে—কে কোন আসন চায়, কতটি আসনের দাবি রয়েছে—এসব বিষয়ে প্রায় এক মাস ধরে পার্টি টু পার্টি আলোচনা চলে।
এই আলোচনা শেষে একটি সমঝোতার প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। এর ভিত্তিতেই ২৮ ডিসেম্বর প্রথম সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং ২৯ ডিসেম্বর সমঝোতার আলোকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। যদিও তখনও কিছু বিষয় চূড়ান্ত হয়নি, সেগুলো পর্যায়ক্রমে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, লিয়াজোঁ কমিটি মাঠের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে আলোচনা পরিচালনা করেছে এবং সবার মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সহানুভূতি জানাতে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই আলোচনা ছিল সম্পূর্ণ সহানুভূতিমূলক। সেখানে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে ঐক্যের পাটাতন তৈরি করে গেছেন, তা নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে অব্যাহত রাখার বিষয়েই কথা হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জাতীয় সরকার গঠন বা এ ধরনের কোনো বিষয় ওই আলোচনায় আসেনি। পরে আমিরে জামায়াতও গণমাধ্যমের সামনে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন।
জামায়াতে ইসলামী নেতা আরও বলেন, এই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক জোট নয়, এটি একটি নির্বাচনী ঐক্য প্রক্রিয়া। দাবিগুলো ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট—লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, স্বৈরাচারের দোসরদের বিচার এবং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন।
সাম্প্রতিক বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একটি নির্ধারিত বৈঠক অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে। মানবিক ভুল হতেই পারে, তবে তা নিয়ে রাজনৈতিক অপব্যাখ্যা অনাকাঙ্ক্ষিত।
আহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ ও শালীনতা রক্ষা করাই তাদের নীতি। কাউকে হেয় করা বা মর্যাদাহানিকর বক্তব্য দেওয়া তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ নয়।





