স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সঠিক তথ্য সরবরাহ এবং অপতথ্য প্রতিরোধ করে জনগণের পাশে থাকাই সরকারের জন্য একটি ‘এসিড টেস্ট’। তিনি তথ্য ব্যবস্থাপনাকে ‘অক্সিজেন’-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের সব জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের (ডিআইও) সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এতে দেশের সব জেলা তথ্য কর্মকর্তা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগকালে সরকারি কার্যক্রমের সঠিক চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে এবং প্রতিদিনের কাজের হিসাব দিতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিদিন অন্তত ২০টি গুজব বা ভুল তথ্য শনাক্ত ও প্রতিরোধ করে সেই তথ্য জনগণকে জানানো গেলে সচেতনতা বাড়বে এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তথ্যের উৎস শুধু প্রিন্ট ও সম্প্রচারমাধ্যম নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। তাই দ্রুততম সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরকারের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার তথ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি এসব জেলার তথ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে অবিলম্বে একটি বিশেষ ইমার্জেন্সি টিম গঠনের জন্য গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন। এই টিম ২৪ ঘণ্টা মন্ত্রণালয় ও সদর দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ ও পরিসংখ্যানভিত্তিক হতে হবে। প্লাবিত এলাকা, পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা, সাপে কাটার ঘটনা এবং ত্রাণ বিতরণের তথ্য নিয়মিত পাঠাতে হবে, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।
তিনি জানান, দুর্যোগ পরিস্থিতিতে জনগণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখতে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন দুর্যোগ পরিস্থিতি ও সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করা হবে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ে একটি সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষও পরিচালিত হবে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. এম এ জলিলসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ, সাপে কাটা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ঠেকাতে জেলা তথ্য অফিসগুলো নিয়মিত মাইকিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।





