স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অবসান ঘটিয়ে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি।
আজ বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত চতুর্থ ধাপে দেশের আরও ১২টি জেলায় ডিজিটাল ‘ই-বেইলবন্ড’ (ইলেকট্রনিক জামিননামা) ব্যবস্থার ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের নাগরিকদের আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আর হয়রানির শিকার হতে দেখতে চাই না। জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অবসান ঘটিয়ে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের মূল অঙ্গীকার।’
তিনি বলেন, আগে একটি জামিননামা আদালত থেকে কারাগার পর্যন্ত পৌঁছাতে এবং আসামির মুক্তি নিশ্চিত করতে ১২টি জটিল ধাপ অতিক্রম করতে হতো। এখন আইনজীবীরা তাদের চেম্বার বা যেকোনো স্থান থেকে স্মার্টফোনের মাধ্যমে এক ক্লিকেই জামিননামা দাখিল করতে পারছেন।
প্রযুক্তিবান্ধব বিচার ব্যবস্থার সুফল তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নারায়ণগঞ্জে এ কার্যক্রমের প্রথম পাইলটিং চালু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াসহ সাতটি জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলায় সফলভাবে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তিনি জানান, তিন ধাপে ১৬টি জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু হওয়ার পর ইতোমধ্যে এক লাখ ২০ হাজার ই-বেইলবন্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল জামিননামা সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। নতুন ১২টি জেলা যুক্ত হওয়ায় বিচারিক প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
এ নিয়ে দেশের মোট ২৮টি জেলায় ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা চালু হয়েছে। অবশিষ্ট জেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে ই-বেইলবন্ড চালুর প্রস্তুতি চলছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এ কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি অনেক লাঘব হবে, বিশেষ করে যারা আসামি আছেন। আমরা আশা করছি, এই কর্মসূচিকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হব।’
মামলাজট নিরসনে বিচারক ও বারের নেতাদের উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, কারাগারে থাকা আপসযোগ্য মামলাগুলো লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করে দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। বছরের পর বছর একটি ছোট মামলা ঝুলে থাকলে একদিকে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, অন্যদিকে বড় অপরাধের আসামিরাও অনেক সময় পার পেয়ে যায়।
মামলার সংখ্যা কমানোর বিষয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি মামলার সংখ্যা কমাতে পারবে, আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হবে।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমুল কায়েস।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও কারাগারের জেল সুপার মো. মাসুদুর রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।





