স্টাফ রিপোর্টার | ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
সংসদ ভবন, ২৭ এপ্রিল ২০২৬: সারা দেশে জুয়া, অনলাইন জুয়া এবং মাদকের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ এপ্রিলের পর সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি জানান, অবৈধ সিসা বার ও লাউঞ্জ বন্ধে পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ বিভাগ ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
আজ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক এর ৭১ বিধিতে দেওয়া জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
নোটিশে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশোধিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সিসাকে ‘খ’ শ্রেণির মাদক হিসেবে তফসিলভুক্ত করা হয়েছে। সরকার মাদককে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধে পরিচালিত অভিযানের বিরুদ্ধে মালিকপক্ষ একাধিক রিট দায়ের করলেও আপিল বিভাগের নির্দেশনায় তা বাতিল হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় পরিচালিত অভিযানে প্রায় পাঁচ কেজি সিসা ও ৩৫টি হুক্কা জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া আরেকটি লাউঞ্জ থেকে চার কেজি সিসা ও আটটি হুক্কা উদ্ধার করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, অবৈধ সিসা লাউঞ্জগুলো যাতে নাম-পরিচয় পরিবর্তন করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনও ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবৈধ সিসা বার ও লাউঞ্জ গড়ে উঠেছিল। এসব স্থানে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত। বর্তমানে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব কার্যক্রম দমন করা হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





