বাংলাদেশ যদি অস্থিতিশীল হয়, তাহলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিতে হবে।

ছাত্রদলের প্রতিবাদ মিছিলের অংশ শাহবাগ।

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেছেন যে, বাংলাদেশ যদি অস্থিতিশীল হয়, তাহলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিতে হবে। তার এই উক্তির বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে:
১. ‘মব’ সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ:
ছাত্রদল সভাপতির মতে, জামায়াত-শিবির ‘মব’ (জনতার ভিড় বা উচ্ছৃঙ্খল জনতা) সৃষ্টিসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে জনমনে অস্থিরতা তৈরি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।
২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্টের অভিযোগ:
ছাত্রদল অভিযোগ করেছে যে, জামায়াত-শিবির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে, তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করে ক্যাম্পাসগুলোতে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার অপতৎপরতায় লিপ্ত। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে আন্দোলন এবং এর পরবর্তী সহিংস ঘটনার জন্য ছাত্রদল ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কথিত কিছু শিক্ষার্থী ও শিবিরের সন্ত্রাসী’দের দায়ী করেছে।
৩. গুপ্ত সংগঠন হিসেবে শিবিরের কার্যক্রম:
ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয়েই বলেছেন যে, ইসলামী ছাত্রশিবির একটি “গুপ্ত সংগঠন” এবং তারা প্রকাশ্যে রাজনীতি করে না, বরং গোপন তৎপরতার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালায়। তাদের অভিযোগ, আগে ছাত্রলীগ যেমন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করতো, তেমনি এখন শিবির একই কাজ করছে।
৪. ‘ফ্যাসিবাদ ও দখলদারিত্বের সংস্কৃতির ধারক বাহক’ হিসেবে অভিযোগ:
ছাত্রদল মনে করে, নিষিদ্ধ সংগঠন শিবির ও ছাত্রলীগ অবৈধ উপায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বেশ ধরে গণতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের নাম করে নিজেদের দখলদারিত্ব জারি রাখার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তারা শিবিরকে ‘ফ্যাসিবাদ ও দখলদারিত্বের সংস্কৃতির ধারক বাহক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
৫. ‘দায় চাপানোর রাজনীতি’ এবং ‘আঁতাত’ এর অভিযোগ:
ছাত্রদল অভিযোগ করেছে যে, শিবির নিজেদের অপরাধমূলক কার্যকলাপের দায়ভার ছাত্রদলের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়া, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি হওয়ার পরেও তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘আঁতাত’ করে রাজনীতি করছে বলেও ছাত্রদল সভাপতি দাবি করেছেন। তার মতে, ১০-১৫ বছর পরে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সহযোগিতায় যদি আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আবারও পুনর্বাসন হয়, সেদিন শিবির পুলিশ হত্যাসহ ‘মব সৃষ্টির’ দায় ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেবে।
সংক্ষেপে, ছাত্রদল সভাপতির এই উক্তির মূল কারণ হলো জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা, ‘মব’ তৈরি, এবং নিজেদের অপকর্মের দায়ভার অন্যের উপর চাপানোর চেষ্টার অভিযোগ।