জাপানের সহায়তায় চট্টগ্রামের বর্জ্য থেকে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন

আধুনিক ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ সিটি কর্পোরেশন

স্টাফ রিপোর্টার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

জাপানের সহায়তায় চট্টগ্রাম নগরীর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন । পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার নগরীর পেনিনসুলা হোটেলে ‘চট্টগ্রাম শহরে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প’-এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মেয়র বলেন, নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। বর্জ্যকে বোঝা নয়, সম্পদ হিসেবে দেখার সময় এসেছে। সমীক্ষায় যে সম্ভাবনা উঠে এসেছে, তা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত প্ল্যান্টে দৈনিক এক হাজার টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা যাবে। বছরে ৩৩০ দিন পরিচালনার ভিত্তিতে ২৫ বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হবে ১৫.১ মেগাওয়াট (গ্রস) এবং ১২.৬ মেগাওয়াট (নেট), যা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

২০২৫ সালের হালনাগাদ সমীক্ষায় জি-টু-জি সহযোগিতা মডেলে জাপানের জেসিএম (Joint Crediting Mechanism) সহায়তায় ভর্তুকির সুযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরের ল্যান্ডফিলে পাঠানো বর্জ্যের পরিমাণ ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে, এতে ল্যান্ডফিলের আয়ু বাড়বে এবং পরিবেশ দূষণ কমবে।

সমীক্ষায় তিনটি ব্যবসায়িক মডেল বিশ্লেষণ করা হয়েছে—জি-টু-জি সহযোগিতা, প্রাইভেট সেক্টর বেনিফিট এবং লিমিটেড সাপোর্ট মডেল। প্রথম দুটি মডেলে ১১ শতাংশের বেশি অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও আর্থিক কাঠামো নিশ্চিত হবে। এতে চট্টগ্রাম দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ওয়েস্ট-টু-এনার্জি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

সভায় জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উপদেষ্টা ইজি কোগা এবং জে এফ ই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

মেয়র জানান, জমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামো প্রস্তুতি ও নীতিগত সমন্বয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে চট্টগ্রাম আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।