বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের শুরুতে তার বক্তব্যে বলেন—

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম।

ফ্যাসিবাদের নির্মমতা, অসংখ্য মানুষের কান্না এবং হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজ পুনরায় যাত্রা শুরু করছে জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সত্যিকার অর্থে জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদ।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। তাঁর অশেষ রহমতে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন করে পথচলা শুরু করতে পেরেছি।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সূচনালগ্নে আমি তাঁদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

এই আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব মা তাঁদের সন্তান হারিয়েছেন, যেসব পরিবার স্বজন হারিয়েছে, যেসব মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন, তাঁদের অবদান আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি।

দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সাহসিকতার সঙ্গে গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। গুম, খুন, নির্যাতন কিংবা কারাগার কোন কিছু দিয়েই তাঁদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যায়নি। তাঁদের এই সাহসী ভূমিকার ফলেই দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

সম্মানিত সংসদ সদস্যবৃন্দ,

দেশনেত্রী জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল এবং জাতীয় সংসদকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল।

সংসদীয় গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম করেছেন। তিনি কখনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি।

আজ দেশে আবার সেই কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। আলহামদুলিল্লাহ। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি তিনি দেখে যেতে পারেননি। তাই আজ জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

সম্মানিত সদস্যবৃন্দ,

বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, “জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেরই আছি।”

অর্থাৎ ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সর্বোচ্চ। এটাই আমাদের রাজনীতির মূল দর্শন।

আমি আজ এই জাতীয় সংসদে শুধু একটি দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে দাঁড়িয়েছি। দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য।

আমরা চাই প্রতিটি পরিবার স্বনির্ভর হোক। আর প্রতিটি পরিবার স্বনির্ভর হলেই গড়ে উঠবে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।

এই লক্ষ্য অর্জনে আমি জনগণের সমর্থন এবং এই মহান সংসদের সকল দলের সম্মানিত সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করছি।

সম্মানিত সংসদ সদস্যবৃন্দ,

আমাদের দল বা মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকা উচিত নয়।

জাতীয় সংসদ হবে যুক্তি, বিতর্ক এবং জাতীয় সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। আমরা চাই এই সংসদ দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করুক।

আমি জাতীয় সংসদের সকল সম্মানিত সদস্যকে আন্তরিক স্বাগত ও ধন্যবাদ জানাই।

আল্লাহ হাফেজ।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।