স্টাফ রিপোর্টার, ৩১ মার্চ ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অ-মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী উল্লেখ করে এ ধরনের অনিয়ম দূর করতে সরকার জোরালো পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ‘স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে অনেক অভিযোগ এসেছে। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে ‘ভুয়া’ শব্দ ব্যবহার অসম্মানজনক। এর পরিবর্তে “অ-মুক্তিযোদ্ধা” শব্দ ব্যবহার করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, অতীতে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নানা অনিয়ম হয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠায় এবং সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই গেজেটভুক্ত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইশরাক হোসেন জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৩০ দিনের মধ্যেই বেশ কিছু আবেদন নিষ্পত্তি করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি গেজেট বাতিল করা হয়েছে এবং নতুন করে কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অ-মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করার ফলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে দেশের মানুষ যখন স্বাধীনতার ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল, তখন তরুণ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেন।
তিনি ২০২১ সালে জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের উদ্যোগের বিষয়টিও উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়নি এবং সে সময় এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।
সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের প্রতিটি খাতে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারসহ অন্যান্য নেতারা।




