রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে: আইনমন্ত্রী

ডিএনএ রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়ার চেষ্টা চলছে

স্টাফ রিপোর্টার | ২৩ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, মামলার ডিএনএ রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়ার চেষ্টা চলছে এবং ঈদের আগেই চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হলে ঈদের পরপরই বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

শনিবার রাজধানীর ব্রাক সেন্টার অডিটরিয়াম-এ অনুষ্ঠিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ, দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এবং ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি।

আইনমন্ত্রী বলেন, “এই মামলা যত দ্রুত শেষ করা সম্ভব, আমরা সেই সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করব।”

চার্জশিট দাখিলের পর বিচার শেষ করতে কতদিন সময় লাগতে পারে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিলের পর এক মাসে বিচার শেষ হয়েছিল। এছাড়া ১৯৪৮ সালের মুলুক চাঁদ মামলায় একদিনেই বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ার উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে চার্জশিট দাখিল করলে প্রসিকিউশনের ক্ষেত্রে দুর্বলতা থেকে যেতে পারে। এ ধরনের মামলায় ডিএনএ পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যখন আমাদের ডিএনএ পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে, তখন তা অবশ্যই করা উচিত।”

তিনি জানান, সাধারণত ডিএনএ রিপোর্ট পেতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস সময় লাগলেও রামিসা হত্যা মামলাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

শিশু ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি সামাজিক অবক্ষয়ের অংশ। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেন। বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েসসহ অন্যান্য অতিথিরা। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেয় ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং ইউএনডিপি-সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা।