নজরুলচর্চা সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে: কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

জাতীয় কবির আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানোর ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার, ২৫ মে ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল দ্রোহ ও বিদ্রোহের কবি নন, তিনি মানবতা, সাম্য, প্রেম ও প্রতিবাদের কবি। আগামী প্রজন্মের কাছে নজরুলকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরতে সরকার নজরুলচর্চা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

সোমবার বিকেলে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল “দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি নজরুল”।

মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ একটি জনপদ। এই অঞ্চলে বহু গুণী শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের জন্ম হয়েছে এবং দেশের নানা ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা এখান থেকেই হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কবি নজরুল দীর্ঘ সময় কুমিল্লায় কাটিয়েছেন। এখানে তিনি কবিতা ও গান রচনা করেছেন, সঙ্গীতচর্চা করেছেন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন, যা কুমিল্লার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

মন্ত্রী বলেন, যুগে যুগে মানবজাতির কল্যাণে সৃষ্টিকর্তা কিছু অসাধারণ মানুষকে পৃথিবীতে পাঠান, যারা সমাজকে পথ দেখান। নজরুল তেমনই একজন বিরল প্রতিভা। বিশ্বসাহিত্যে বিপ্লব ও প্রতিবাদের কবিদের মধ্যে তাঁর অবস্থান অত্যন্ত উঁচু।

তিনি বলেন, নজরুলের গান ও কবিতা যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস যুগিয়েছে এবং নিপীড়িত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতার সংগ্রামসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে তাঁর সৃষ্টিকর্ম মানুষকে জাগ্রত করেছে।

লেখক ও গবেষকদের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। অতীতে যারা কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য গড়ে গেছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব এমন কাজ করে যাওয়া, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও সম্মানের সঙ্গে তাঁদের স্মরণ করে।

জেলা প্রশাসক মুঃ রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোঃ ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ মোস্তাক মিয়া এবং পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান পিপিএম।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন লেখক ও গবেষক প্রফেসর শান্তি রঞ্জন ভৌমিক, ড. আলী হোসেন চৌধুরী এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল হাছানাত মোঃ মাহবুবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নজরুল সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

পরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার বিতরণ করেন মন্ত্রী।