স্টাফ রিপোর্টার | ২ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক বলেছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না। জনশক্তি রপ্তানি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।
মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই সিন্ডিকেটমুক্ত কর্মী প্রেরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।
প্রবাসীদের জন্য একটি সমন্বিত ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, নতুন এই কার্ড চালু হলে আলাদা বিএমইটি কার্ডের প্রয়োজন হবে না। একটি কার্ডের মাধ্যমেই প্রবাসীরা প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
রাশিয়ায় মানবপাচার এবং কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে আরিফুল হক বলেন, বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি জানান, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের অনুমোদন ছাড়া কোনো কাগজপত্র বা কার্ড ইস্যু করা হয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
প্রবাসীদের অভিযোগ ও সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা তাদের সমস্যা, বিনিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির বিষয়ে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
আরিফুল হক বলেন, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত অনেক শ্রমিক ই-মেইল ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তাই হোয়াটসঅ্যাপসহ সহজ যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে এবং খুব শিগগিরই সুসংবাদ পাওয়া যেতে পারে। শ্রমবাজার খুললে তা হবে স্বচ্ছ ও সিন্ডিকেটমুক্ত এবং অতীতের মতো কোনো গোষ্ঠীকে একক সুবিধা দেওয়া হবে না।
প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। ব্যাংকিং সুবিধা, ডিজিটাল পরিচয়, ভূমিসংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়গুলো বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ১০১টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং জনশক্তি রপ্তানি ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করা তার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, এই খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে না পারলে নিজেকে সফল মনে করবেন না।
সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং কোথাও অনিয়মের প্রমাণ মিললে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।





