সনদনির্ভর নয়, দক্ষ ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

প্রযুক্তিনির্ভর ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার | ০৭ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সনদনির্ভরতা থেকে বের করে দক্ষতা, প্রযুক্তি ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করা জরুরি।

রোববার সকালে ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন ও রাজনৈতিক সংকট দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এখন একটি গণতান্ত্রিক, জ্ঞানভিত্তিক ও দক্ষতানির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার সময় এসেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আরও সক্ষম হয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।

উচ্চশিক্ষা বিস্তারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের দুই হাজারের বেশি অধিভুক্ত কলেজে বর্তমানে ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এআই ও অটোমেশনের কারণে অনেক প্রচলিত পেশা ঝুঁকিতে পড়লেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানো প্রযুক্তি ও ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

তিনি জানান, উচ্চশিক্ষিতদের বেকারত্ব কমাতে সরকার এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারে।

তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণার বাণিজ্যিকীকরণের জন্য ‘সিড ফান্ডিং’ ও ‘ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর ফলে তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে আরও সচেতন করার আহ্বান জানান।

এছাড়া বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাষাজ্ঞান দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে।

শিক্ষকদের সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ছাত্র-যুবসমাজকে প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নাগরিক সমাজ ও শিল্পখাতসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।