স্টাফ রিপোর্টার | ৯ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার (৮) হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি এবং ডেথ রেফারেন্স উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে ৬৯ পৃষ্ঠার রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি এবং ৩ পৃষ্ঠার ডেথ রেফারেন্সসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পূর্ণাঙ্গ কপি ও ডেথ রেফারেন্স নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের অফিস সহায়ক শহিদুল ইসলাম রওয়ানা দেন।
এর আগে গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আলোচিত এ মামলার রায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রামিসা আক্তার রাজধানীর একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর স্বপ্না কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়।
পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার বাবা-মা আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে ভবনের অন্যান্য বাসিন্দাদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তারা শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই দিন ঢাকার একটি আদালতে সোহেল রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। আদালত স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিনে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। পরে ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।





