স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার ধরে রাখা ও সম্প্রসারণের জন্য আগের চেয়ে আরও কঠোর প্রতিযোগিতায় নামতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শনিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘রোডম্যাপ টু ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি কনফারেন্স’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা, জলবায়ু ঝুঁকি এবং বিশ্ব বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবর্তিত বাস্তবতার মধ্যেও বাংলাদেশের রপ্তানি অবস্থান ধরে রাখতে এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে আরও জোরালো প্রতিযোগিতা করতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির মন্থর প্রবৃদ্ধি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা, জলবায়ু ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তন বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলছে। এর সঙ্গে চলমান জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মূলধন সংগ্রহ দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। যেখানে উন্নত দেশগুলো ১ থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পায়, সেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে ৬ থেকে ১২ শতাংশ বা তারও বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। ফলে সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলবায়ু ঝুঁকি ও ঋণ সংকটের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে শুধু ঝুঁকির কারণেই অতিরিক্ত অর্থনৈতিক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, যা উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্ব বাণিজ্যে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ব্লকচেইন এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধরন বদলে দিচ্ছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই ‘ট্রেড টেক’ পরিবেশ একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ সৃষ্টি করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল তিনটি মূল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে—‘স্থিতিশীলতা, সংস্কার এবং অগ্রগতি’। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কূটনীতিকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে তারা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্য চুক্তি আধুনিকীকরণ, বাজারসুবিধা সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক একীভূতকরণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করা, প্রাতিষ্ঠানিক বাধা দূর করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। তিনি আশ্বাস দেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প থেকে শুরু করে বড় শিল্পগোষ্ঠী—সবার জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ, নীতিগত নিশ্চয়তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী এবং ব্যবসায়ী নেতাদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যাত্রার সক্রিয় অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান এবং দেশের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে ধারাবাহিক সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।





