জনগণের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় শক্তি, নিরাপত্তা যেন দূরত্ব তৈরি না করে: প্রধানমন্ত্রী

এসএসএফ সদস্যদের জনগণের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও আধুনিক নিরাপত্তা দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপরই তাঁর সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি যেন সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়, সে বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এসএসএফ-এর প্রধান দায়িত্ব হলেও দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার বা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বর্তমান সময়ে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ অনেক বেড়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং পেশাদার দক্ষতার বিকল্প নেই।

তারেক রহমান বলেন, ৪০ বছর আগে সময়ের প্রয়োজনেই বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ‘এসএসএফ’ নামে বাহিনীটির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী সব সদস্যকে তিনি অভিনন্দন জানান।

এসএসএফ-এর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসএসএফ অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তাঁর মৃত্যুর পর আয়োজিত বিশাল জানাজা অনুষ্ঠানের সমন্বয়েও বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, চলমান গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এসএসএফ সরকার প্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যাচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে নিজের গাড়িবহরের আকার সীমিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়। এসব অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচল ও স্বাচ্ছন্দ্যও বজায় রাখতে হয়। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফকে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জের উদ্বোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশল উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, এসএসএফ-এর ‘রেড বুক’ আধুনিক ও সময়োপযোগী করে পুনঃসংস্কার করা হয়েছে। এটি বাহিনীর কর্মপদ্ধতির নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষায়িত বাহিনীর সদস্যদের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, পেশাদারিত্ব এবং ‘চেইন অব কমান্ড’-এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তিনি আশ্বাস দেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফকে আরও দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান, এসএসএফ প্রধান এবং বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।