স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সরকার দেশের শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানবসম্পদ এবং এই মানবসম্পদ গড়ে তোলার মূল কারিগর শিক্ষকরা। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা অপরিহার্য। এ কারণে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আনন্দময় করতে চায়। সে লক্ষ্যে শ্রেণিকক্ষে ‘লার্ন উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষার ধারণা পাঠ্যবইয়ের সিলেবাস ও কারিকুলামে সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে আগামী বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়কেও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রাহ্ম স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরে এটি জগন্নাথ কলেজে রূপান্তরিত হয় এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা প্রণয়ন ও সাংগঠনিক কাঠামো গঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
তিনি অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনায় নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো বই পৌঁছে দিতে বই চোরাচালান প্রতিরোধেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমান শিক্ষার প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন এবং শিক্ষা খাতে তাঁর দূরদর্শী চিন্তা আজও প্রাসঙ্গিক।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষার প্রসারে ‘খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা’ এবং পরে ‘টাকার বিনিময়ে শিক্ষা’ কর্মসূচি চালু করেছিলেন। পাশাপাশি মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি কর্মসূচি মাধ্যমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছিল।
মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান করা হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দীন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. পরিমল বালা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মনজুর মোর্শেদ ভুঁইয়াসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।





