স্টাফ রিপোর্টার | ২৫ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
বেইজিং: বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিনিয়োগ, সবুজ উন্নয়ন, গণমাধ্যম, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এসব সমঝোতা স্মারকে সই হয়।
সমঝোতা স্মারকে সই করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে জানান, সমঝোতা স্মারকগুলো মূলত বিনিয়োগ সহযোগিতা, গ্রিন ডেভেলপমেন্ট এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই থেকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রায় ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনায় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। তাঁর সম্মানে তোপধ্বনি দেওয়া হয় এবং পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন।
পরে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন জানান, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের আওতায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে পৃথক সহযোগিতা পরিকল্পনা, বাংলাদেশ থেকে জাতীয় ফল কাঁঠাল রপ্তানি, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষায় দুটি এমওইউ এবং গণমাধ্যম খাতে চারটি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, চীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে এবং বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিনিয়োগসহ সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, চীনের আন্তরিক অভ্যর্থনা বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও উজ্জ্বল করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





