স্টাফ রিপোর্টার | ১১ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (US-Bangladesh Business Council—USBBC) উচ্চপর্যায়ের ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশে বর্তমানে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সরকার শুল্ক-সুবিধাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে এক ছাতার নিচে এনে কার্যক্রম সহজ করতে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে এ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক ও আইনি সুবিধাগুলো সুসংগঠিত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিভিন্ন প্রস্তাব সরকার পর্যালোচনা করছে। এসব উদ্যোগ দেশের জ্বালানি খাতের বহুমুখীকরণের পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারি পর্যায়ের (G2G) উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের বড় সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা, স্মার্ট পুলিশিংয়ের আওতায় ‘সেফ সিটি’ প্রকল্প, সীমান্ত নিরাপত্তায় ‘ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট’ এবং ই-ভিসা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ এশিয়া) অতুল কেশপ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান কোম্পানিগুলো কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং বর্তমানে তারা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী।
বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাগত সক্ষমতা উন্নয়নের পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও কর উৎপাদনশীলতা বাড়ানো জরুরি।
মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সরকারকে সহায়তা ও অংশীদার হতে পারে, সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
অতুল কেশপের নেতৃত্বে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ১৬ সদস্যের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।





