চীন সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সফল হয়েছে : মাহদী আমিন

কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে রচিত হয়েছে সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি

স্টাফ রিপোর্টার , ৩১ আগস্ট ২০২৬,নিউজ চ্যানেল বিডি

কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর, একটি আন্তর্জাতিক সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন এবং তিনটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম চালুর মধ্য দিয়ে সাম্প্রতিক তিন দিনের চীন সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

সোমবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘চীন সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে’ তিনি এ তথ্য জানান।

ড. মাহদী আমিন বলেন, বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত কার্যকর ও স্বল্প খরচে মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা প্রদানে চীনের সুখ্যাতি রয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে স্বল্পসময়ের এই সফরে চীনের ৫০টিরও বেশি প্রথম সারির কারিগরি ও বৃত্তিমূলক বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সফরের মূল অর্জন হলো বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে একটি সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি রচিত হয়েছে।’

তিনি জানান, সফরকালে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি ‘চায়না-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড এডুকেশন ইন্টিগ্রেশন ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস সেন্টার’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি যৌথ সহযোগিতা জোরদারে আরও তিনটি প্ল্যাটফর্মের সূচনা হয়েছে। এগুলো হলো—‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার’, ‘বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার’ এবং ‘বাংলাদেশ-চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+ স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ সহযোগিতা কেন্দ্র।

উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের তরুণদের দক্ষতায় উন্নীত করে দ্রুত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা যেন চীনা ভাষায় দক্ষতা অর্জন করে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক সংস্থায় সহজে কর্মসংস্থান পেতে পারে, সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো দক্ষতাকে সরাসরি কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা। শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক বৃত্তির সুযোগ বাড়ানো, যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু এবং তৃতীয় ভাষা হিসেবে চাইনিজ শেখার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে এ দেশের তরুণরা বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।’

চীন থেকে আগত কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতেও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।