স্টাফ রিপোর্টার | ৩০ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া। দেশের বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে এসব শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বাংলাদেশে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল, সোলার প্যানেলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ এবং হালাল ফুড খাতে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ব্যাপারেও প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। খুব দ্রুত এসব প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে ১০ হাজার শ্রমিক তারা বিনা খরচে নেবে।
বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানান তিনি।
আজ রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ান হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহদা বিন ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব মো. শহিদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রায় আট লাখ নিবন্ধিত শ্রমিক বর্তমানে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। এছাড়া কিছু অনিবন্ধিত শ্রমিকও রয়েছেন। এসব শ্রমিককে নিবন্ধনের আওতায় আনার বিষয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করছেন। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী বাংলাদেশের ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করছেন।
রাজধানীর সড়কে ই-রিকশা বা ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, মূল সড়কে ই-রিকশা চলতে দেওয়া হবে না। আটটি জোন করে অভ্যন্তরীণ সড়কে এগুলো চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরে যেসব ই-রিকশাকে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে, সেগুলোর যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে দুই ও চার জন। ছয়জনের কোনো ই-রিকশাকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে না।
তবে দুই, চার ও ছয় যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশা গ্রামীণ এলাকা ও জেলা শহরের গ্রামীণ সড়কে চলাচলের জন্য রেজিস্ট্রেশন পাবে বলে জানান তিনি। এসব যানবাহন বুয়েট ও অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফাইড ডিজাইন অনুযায়ী তৈরি হতে হবে।
নীতিমালা কবে নাগাদ কার্যকর হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নীতিমালা এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভেটিংয়ের জন্য এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং হয়ে আসার পর এক সপ্তাহ বা পরের সপ্তাহের মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব নীতিমালা দেওয়া হবে।
আইনের আলোকে নীতিমালা জারি হলে ই-রিকশা ও ইলেকট্রিক রিকশাগুলো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার সড়কে ব্যবহৃত রাবার কার্পেটিং প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশে পলিমার মডিফাইড বিটুমিন বা রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারে কারিগরি সহায়তা দিতে মালয়েশিয়া রাজি হয়েছে।
তিনি বলেন, রাবারাইজড বিটুমিন সাধারণত সড়ক কার্পেটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়। মালয়েশিয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও তাদের কার্পেটিং করা রাস্তা সহজে নষ্ট হয় না। কার্পেটিংয়ের সঙ্গে রাবার ব্যবহারের কারণেই এটি সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তিনি।





