স্টাফ রিপোর্টার | ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রাবিউল আলম বলেছেন, দেশের কোনো জাতীয় মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বা অটোরিকশা চলাচলের কোনো ধরনের আইনি সুযোগ নেই।
তবে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন-জীবিকা ও কর্মসংস্থান এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় মানবিক দিক বিবেচনায় ধাপে ধাপে একটি টেকসই ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নীতিমালার মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ রাজধানীর ধানমন্ডি লেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সামাজিক সংগঠন ধানমন্ডি ইয়ুথ ক্লাব এ পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির আয়োজন করে।
মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি নেই
সড়কমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনোভাবেই জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে নয় এবং এটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে একাধিক সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের সম্পূর্ণ বিরোধী। এটি দ্রুততার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তবে অটোরিকশা স্থানীয় বা ফিডার রোডে কীভাবে চলবে এবং মহাসড়কে এর অনুপ্রবেশ কীভাবে বন্ধ থাকবে, নীতিমালায় তার স্পষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন।’
মন্ত্রী বলেন, অটোরিকশা কোন পরিসরে চলবে এবং কোথায় কোনোভাবেই চলাচল করতে পারবে না, সে বিষয়ে সর্বজনগ্রাহ্য একটি সমন্বিত নীতিমালা চূড়ান্ত করা এখন সময়ের দাবি।
সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ
শেখ রাবিউল আলম জানান, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব অংশীজনের যৌথ সমন্বয়ে নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।
তবে ওই নীতিমালায় কোনোভাবেই জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের আইনি অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ থাকবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
হঠাৎ চরম সিদ্ধান্ত না নিয়ে পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের লাখ লাখ সাধারণ মানুষ সরাসরি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। হঠাৎ একক সিদ্ধান্তে এসব যানবাহন বন্ধ করে দিলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, শুধু যানবাহন বন্ধ করাই মূল সমাধান নয়; বরং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শৃঙ্খলিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্তদের জীবন-জীবিকায় সহানুভূতিশীল সরকার
মন্ত্রী বলেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের কারণে যারা সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, তাদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সরকার সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি রাখবে।
তাদের কীভাবে অনুমোদনপ্রাপ্ত স্থানীয় রুটের আওতায় আনা যায় কিংবা একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে শেখ রাবিউল আলম বলেন, নির্ধারিত কোনো আঞ্চলিক বা অভ্যন্তরীণ সড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি থাকলেও চালকদের ন্যূনতম ড্রাইভিং দক্ষতা ও বয়সের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।
ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।
সমন্বিত উদ্যোগে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর কাজ চলছে
সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের কাজের পরিধি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব হলো উচ্চমানের রাস্তা ও মহাসড়ক নির্মাণ, সম্প্রসারণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা। সে অনুযায়ী কাজ দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে এককভাবে শুধু সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় দায়ী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাইওয়ে ব্যবস্থাপনার সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও হাইওয়ে পুলিশ জড়িত।
সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কের কোনো বিশৃঙ্খলা বা অনিয়মের পুরো দায়ভার এককভাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয়। কারণ, সার্বিক আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে ধানমন্ডি ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ খালিদ হাসান জ্যাকীর সভাপতিত্বে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।





