✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮

কক্সবাজারে একই দিনে দুই স্থানে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন শত শত পর্যটক

সুগন্ধা পয়েন্টের সি প্রিন্সেস হোটেলে জেনারেটর থেকে আগুনের সূত্রপাতের আশঙ্কা, সন্ধ্যায় মেরিন ড্রাইভ সড়কের একটি রেস্তোরাঁয়ও আগুন স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি কক্সবাজার: পর্যটননগরী কক্সবাজারে একই দিনে পৃথক দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে অবস্থিত সি প্রিন্সেস হোটেলে আগুন লাগার পর সন্ধ্যায় মেরিন ড্রাইভ সড়কের…

সুগন্ধা পয়েন্টের সি প্রিন্সেস হোটেলে জেনারেটর থেকে আগুনের সূত্রপাতের আশঙ্কা, সন্ধ্যায় মেরিন ড্রাইভ সড়কের একটি রেস্তোরাঁয়ও আগুন

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

কক্সবাজার: পর্যটননগরী কক্সবাজারে একই দিনে পৃথক দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে অবস্থিত সি প্রিন্সেস হোটেলে আগুন লাগার পর সন্ধ্যায় মেরিন ড্রাইভ সড়কের কোরআফ রেস্তোরাঁয়ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে এ ঘটনায় হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টার দিকে সি প্রিন্সেস হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। হোটেলটির জেনারেটর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণে আগুন লাগতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

আগুনের সূত্রপাতের পরপরই হোটেলের কর্মীরা অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।

হোটেলটিতে অবস্থানরত প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ অতিথি ও পর্যটক আগুনের খবর পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে কক্ষ থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। হোটেলের কর্মীরাও অতিথিদের নিরাপদে বের হতে সহযোগিতা করেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং বর্তমানে হোটেলের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে।

এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কে অবস্থিত কোরআফ রেস্তোরাঁয় বারবিকিউ বা চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ভিডিও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সেখানেও দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ে উদ্বেগ

কক্সবাজারে ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পর্যটন এলাকার অগ্নিনিরাপত্তা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, হোটেল, মোটেল ও কটেজ নির্মাণের কারণে অনেক জায়গায় জলাশয় ও পুকুর ভরাট বা দখল হয়ে গেছে। ফলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের জন্য পর্যাপ্ত পানি সংগ্রহ এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ভিডিও প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে কিছু হোটেল, মোটেল ও কটেজ ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র পায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এ অবস্থায় পর্যটন এলাকার হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিশ্চিত করা এবং জলাশয় সংরক্ষণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

সম্প্রতি কক্সবাজারে আরেকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনার উল্লেখ করে ভিডিও প্রতিবেদনে পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ওই ঘটনার তারিখ, হতাহতের সংখ্যা ও নিখোঁজ ব্যক্তির বিষয়ে প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

পর্যটননগরী কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নিয়মিত মহড়া, জরুরি বহির্গমন পথ এবং পর্যাপ্ত পানির উৎস নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।