স্টাফ রিপোর্টার | ৮ নভেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: রাজনীতিতে নেতৃত্বের জায়গা তৈরি করতে হয় কাজের মাধ্যমে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ইতিবাচক রাজনীতি, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক অবদানের মধ্য দিয়েই নেতৃত্বে আসতে হয়। ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দলের জন্য কে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, নেতৃত্ব নির্বাচনে সেটিই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
আজ জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান ফাউন্ডেশন আয়োজিত সাবেক হুইপ ও বিএনপির প্রবীণ নেতা মরহুম মশিউর রহমানের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাবেক হুইপ মশিউর রহমানের মতো নিবেদিতপ্রাণ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব আজ অনুভূত হচ্ছে। তিনি ঝিনাইদহে এমন একটি রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করে গেছেন, যার প্রভাব জেলার গণ্ডি পেরিয়ে খুলনা বিভাগে বিস্তৃত হয়েছিল। জাতীয় পর্যায়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, ঝিনাইদহের রাজনীতিতে মশিউর রহমানের অবদান ও নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অনুপস্থিতিতে গত নির্বাচনে ঝিনাইদহের চারটি আসনের মধ্যে তিনটি আসন পুনরুদ্ধার করতে না পারার বিষয়টি বেদনাদায়ক। তিনি বেঁচে থাকলে জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন হতো। মৌলবাদ মোকাবিলা ও মাদকবিরোধী সংগ্রামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঝিনাইদহের তিনটি আসন পুনরুদ্ধার করতে না পারার দায় কোনো একক ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। এটি সম্মিলিত সিদ্ধান্তহীনতা ও ভুল সিদ্ধান্তের ফল। এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীদের রাজপথে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিএনপির আদর্শের ভিত্তি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও নেতৃত্ব। বিএনপির আদর্শ ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মশিউর রহমান ছিলেন দলের অন্যতম ভ্যানগার্ড।
মশিউর রহমানকে প্রকৃত অর্থে শ্রদ্ধা জানাতে হলে তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণাবলি, দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টা এবং দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেতনাকে ধারণ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।
আগামী দিনের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেতৃত্ব কখনো স্থির বা কারও কাছে চিরস্থায়ীভাবে বন্দি থাকে না। যোগ্যতা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক অবদানের মধ্য দিয়ে প্রত্যেকেরই নেতৃত্বে আসার সুযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির বর্তমান মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের উদাহরণ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার কাজে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। তাঁদের রাজনৈতিক ভূমিকা নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীদের জন্য অনুসরণীয়।
অনেক সময় রক্তের সম্পর্কের চেয়েও রাজনৈতিক আদর্শের সম্পর্ক গভীর ও শক্তিশালী হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলের আদর্শ, সহযোদ্ধাদের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। যারা আগামী দিনে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের মশিউর রহমানের মতো নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের পাশাপাশি দলের ঐক্য, আদর্শ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
ঝিনাইদহের উন্নয়ন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ঝিনাইদহ সদর হয়ে মাগুরা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঝিনাইদহের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ ও উন্নত হবে। সরকার এটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে।
এ ছাড়া দ্বিতীয় যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা ও যমুনা নদীর ওপর ওয়াই-আকৃতির সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ বিষয়ে সমীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সহসম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সহসম্পাদক মনির খানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।





