নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে ইসি’র রোডম্যাপ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা থেকে শুরু করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ—প্রতিটি ধাপে একটি সুসংগঠিত রোডম্যাপ বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা
- সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
- জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, সেটি দূর করাই ইসি’র প্রধান চ্যালেঞ্জ। এজন্য সংলাপ, উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি ও অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক হবে।
ভোটের প্রস্তুতি ও সময়সীমা
- ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
- ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে।
- তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত ইসি সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব ভোগ করবে।
- প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনা
- অতীতের (২০১৪, ২০১৮, ২০২৪) বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়া হবে।
- প্রায় ৯ লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রয়োজন হতে পারে; বিতর্কিতদের বদলে নতুন লোকবল নিয়োগের চেষ্টা চলছে।
ইসি’র অগ্রগতি প্রতিবেদন
- সীমানা নির্ধারণ: ৩০০ আসনের খসড়া প্রকাশ, দাবি-আপত্তি শুনানি শিগগির।
- দল নিবন্ধন: ১২১টি আবেদন বাতিল, ২২টি তদন্তাধীন।
- পর্যবেক্ষক সংস্থা: ৩১৮টি আবেদন যাচাই চলছে।
- আরপিও সংস্কার: ৪৪টি প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পথে।
- ভোটার তালিকা: ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত হবে, নভেম্বরে সম্পূরক তালিকা।
- সরঞ্জাম ক্রয়: সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা।
- রোডম্যাপ: খসড়া পরিমার্জন চলছে।
রোডম্যাপের গুরুত্ব
নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীমের মতে, রোডম্যাপ জনগণকে নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে ধারণা দেবে। এতে ইসি আরও দায়বদ্ধ হবে এবং অংশীজনদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। তবে তিনি মনে করেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।





