রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং লাইসেন্স অর্জন

জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন, শিগগিরই উৎপাদন শুরু হওয়ার আশা

স্টাফ রিপোর্টার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করেছে । জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাসমূহের পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে এখন প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনিং লাইসেন্স এবং সংশ্লিষ্ট পার্সোনেল অথরাইজেশন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলামের নিকট হস্তান্তর করেন।

লাইসেন্স প্রাপ্তির পূর্বে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রয়োজনীয় সকল কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করে। পাশাপাশি জাতীয় নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিভিন্ন ধাপে পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এসব কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (NPCBL)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জ্বালানি লোডিং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন করা হয় এবং পরবর্তী ধাপে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ার মাধ্যমে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হবে।

জানা গেছে, চলতি এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে। প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হওয়ায় নির্ধারিত সময়েই কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফুয়েল লোডিং শুরু হওয়ার প্রায় তিন মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষণ সম্পন্ন করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অগ্রগতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।