জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও দুর্নীতি দমনে জোর; জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই দেশের স্বার্থে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, “জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।”

তিনি বলেন, মত ও পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সেই ভিন্নতা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, যাদের আত্মত্যাগে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে, সেই শহীদদের অবদান চিরস্মরণীয়। আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও তিনি গভীর সম্মান ও ভালোবাসা জানান।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি জাতি চিরঋণী।

স্বাধীনতা পুরস্কার নিয়ে বক্তব্য

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান, যা ১৯৭৭ সালে প্রবর্তিত হয়।

তিনি জানান, চলতি বছর ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের অগ্রাধিকার ও চ্যালেঞ্জ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্বল অর্থনীতি, শাসন কাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, শিক্ষা সংস্কার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নারী নিরাপত্তা

তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করা জরুরি। দেশের বৃহৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বড় চ্যালেঞ্জ।

নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

অর্থনীতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে। অনেক দেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলেও বাংলাদেশে তা বাড়ানো হয়নি।

জনগণের প্রতি আহ্বান

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অযথা ব্যয় কমিয়ে সংযমী জীবনযাপন করা উচিত। সরকার জনগণের কল্যাণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের অন্যান্য দিক

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।