ডিমের দাম এক সপ্তাহে ডজনে বেড়েছে ২০ টাকা

খাদ্যের উচ্চমূল্য, উৎপাদন ঘাটতি ও প্রতিকূল আবহাওয়া দায়ী স্টাফ রিপোর্টার: মনিরুল ইসলাম মানিক বাংলাদেশে গত এক সপ্তাহে ডিমের বাজারে হঠাৎ…

খাদ্যের উচ্চমূল্য, উৎপাদন ঘাটতি ও প্রতিকূল আবহাওয়া দায়ী

স্টাফ রিপোর্টার: মনিরুল ইসলাম মানিক

বাংলাদেশে গত এক সপ্তাহে ডিমের বাজারে হঠাৎ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত মাসের তুলনায় এই বৃদ্ধি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেশি।

খাদ্য উপাদানের দাম বৃদ্ধিই মূল কারণ

ডিম উৎপাদনের মোট খরচের প্রায় ৭৫ শতাংশই আসে মুরগির খাদ্য থেকে। বাংলাদেশ মূলত ভুট্টা ও সয়াবিন আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এই উপাদানগুলোর দাম বাড়লে তা সরাসরি দেশের খামারিদের খরচ বাড়িয়ে দেয়। ফলে উৎপাদন খরচ মেটাতে খামারিরা ডিমের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

উৎপাদন ঘাটতি ও প্রতিকূল আবহাওয়া

বাংলাদেশ এগ প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে দৈনিক উৎপাদন ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন ডিম কমেছে। টানা গরমেও মুরগির ডিম পাড়ার হার কমেছে। পাশাপাশি লোকসানে অনেক ছোট খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ আরও কমে গেছে।

চাহিদা বেড়েছে, সুযোগ নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা

মাছ, মাংস ও সবজির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ তুলনামূলক সস্তা প্রোটিন হিসেবে ডিমের উপর নির্ভর করছে। এতে হঠাৎ করেই চাহিদা বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। তারা খামারিদের কাছ থেকে কম দামে ডিম কিনে খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন। ফলে খামারিরা ন্যায্য দাম না পেলেও ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

অতীতের প্রেক্ষাপট

২০২৩ সালের আগস্টে খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক ডজন ডিমের দাম এক পর্যায়ে ১৯০ টাকায় পৌঁছায়, যা বছরের সর্বোচ্চ। ডিসেম্বরে দাম কিছুটা কমলেও পুরো বছর জুড়ে অস্থিরতা ছিল স্পষ্ট।

সমাধানের পথ

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে—

স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি,

খাদ্য আমদানিতে শুল্ক ও খরচ কমানো,

সরবরাহ শৃঙ্খলে নজরদারি বাড়ানো, এবং

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো প্রয়োজন।