আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation – PR) হলো এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা যেখানে ভোটাররা সরাসরি প্রার্থীকে নয়, বরং রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। প্রতিটি দল তাদের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে সংসদে আসন পায়।
পিআর পদ্ধতির মূল সুবিধা :
ভোট নষ্ট হয় না এবং ছোট দলগুলোও সংসদে প্রতিনিধিত্ব পেতে পারে। এছাড়া এটি রাজনৈতিক বৈচিত্র্য বাড়ায়, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত খরচ কমায় এবং নির্বাচনী এলাকায় গেরিম্যান্ডারিং-এর সুযোগ প্রায় থাকে না। ওপেন লিস্ট ব্যবস্থায় ভোটাররা প্রার্থীও বেছে নিতে পারেন, ফলে প্রার্থীর জবাবদিহি বাড়ে।
“তবে এই পদ্ধতির কিছু অসুবিধাও রয়েছে“
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হওয়ায় জোট সরকার প্রায়শই গঠিত হয়, যা বিভিন্ন মতভেদ এবং কোন্দলের কারণে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। দুর্বল জোট সরকার বিদেশি চাপ মোকাবিলায় শক্তিশালী হয় না। ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন বা জোট ভাঙার কারণে দীর্ঘমেয়াদী নীতির ধারাবাহিকতা কমে যায়। ক্লোজড লিস্টে নির্বাচিত এমপি সাধারণ জনগণের চেয়ে দলীয় নেতৃত্বের কাছে বেশি দায়বদ্ধ হন, এবং দলীয় তালিকা বা স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে নীতি নির্ধারণে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশে পিআর পদ্ধতি চালু হলে ভোটার ও ছোট দলগুলো উপকৃত হবে, বড় দলগুলো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে, বৈচিত্র্যময় সংসদ গঠন হবে, কিন্তু জোট সরকারের অস্থিতিশীলতা, নীতির ধারাবাহিকতার অভাব এবং বিদেশি চাপ মোকাবিলায় দুর্বলতা তৈরি হতে পারে।





