আদ-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত একাধিক গণমাধ্যমকর্মী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সফরকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিকরা

স্টাফ রিপোর্টার, ৩০ মে ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হামলার শিকার হয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকরা। এ ঘটনায় একাধিক সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন এখন টেলিভিশনের চিত্র সাংবাদিক এইচ এম জসিম, সময় সংবাদের নির্বাহী চিত্র সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলাম, টাইমস অব বাংলাদেশ-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাজী জাহিদ আহমেদ, স্টার নিউজের স্টাফ রিপোর্টার নিবিড় সাহা, স্টার নিউজের চিত্র সাংবাদিক, দীপ্ত টেলিভিশনের সাংবাদিক মোহাম্মদ ইকবাল এবং সদ্য সংবাদ অনলাইনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. জুবায়ের।

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে আদ-দ্বীন হাসপাতালের একটি এসির গ্যাস লিকেজের ঘটনায় কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার বিষয় উঠে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। মন্ত্রীর সফরের খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা সেখানে সংবাদ সংগ্রহের জন্য উপস্থিত হন।

এখন টেলিভিশনের চিত্র সাংবাদিক এইচ এম জসিম নিউজ চ্যানেল বিডিকে জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ অফিসে পাঠানোর সময় হঠাৎ করেই হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়।

তিনি বলেন, “আমি অফিসে ভিডিও পাঠানোর কাজে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ করেই আমাদের ওপর হামলা শুরু হয়। আমার দিকে চেয়ার ছুড়ে মারা হয়। একটি ডাব এসে আমার পায়ে আঘাত করে। এতে আমি আহত হই।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সময় সংবাদের নির্বাহী চিত্র সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলামকে লক্ষ্য করেও চেয়ার নিক্ষেপ করা হয়। হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্রসদৃশ বস্তু দেখা গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

টাইমস অব বাংলাদেশ-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাজী জাহিদ আহমেদ নিউজ চ্যানেল বিডিকে জানান, হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আয়া, ওয়ার্ড বয় ও অন্যান্য কর্মচারীরা সংঘবদ্ধভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।

তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ইশারায় কর্মচারীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সাংবাদিকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এতে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

হামলার ঘটনার পর সন্ধ্যার দিকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য হাসপাতালে গেলে সদ্য সংবাদ অনলাইনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. জুবায়েরের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে তিনিও আহত হন।

এ ছাড়া স্টার নিউজের স্টাফ রিপোর্টার নিবিড় সাহা, স্টার নিউজের চিত্র সাংবাদিক এবং দীপ্ত টেলিভিশনের সাংবাদিক মোহাম্মদ ইকবালও হামলায় আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি শারীরিকভাবে হামলা চালান। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান।

ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশন ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (টিসিএ)। সংগঠনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তিনি ফেইসবুক পোষ্টে এক বিবৃতিতে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা শুধু গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, এটি সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতার ওপরও সরাসরি আঘাত।

তিনি বলেন, “ঘটনার পেছনে কারা জড়িত ছিল, কার নির্দেশে এবং কার উস্কানিতে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে তা দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

টিসিএ নেতারা আহত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।