বাগেরহাটের চরবানিয়ারি পূজামণ্ডপে ১৭১ প্রতিমার অনন্য সাজ

দুর্গোৎসব ঘিরে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ছবি: আজাদ রুহুল আমিন বাগেরহাট

Posted by:

on

প্রতিবেদক: আজাদ রুহুল আমিন
বাগেরহাট, ২৮ সেপ্টেম্বর

জেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর পূজামণ্ডপ হিসেবে উঠে এসেছে চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারি পশ্চিম পাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপ। মণ্ডপটির বিশেষ আকর্ষণ দৃষ্টিনন্দন ১৭১টি প্রতিমা। ইতোমধ্যে ভাস্করের কাজ শেষ হয়েছে এবং শিল্পীর নান্দনিক তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলো পেয়েছে বর্ণিল রূপ। শঙ্খের ধ্বনি, কাঁসরের ঘণ্টা আর সাজসাজ রবের মধ্যে পূজারীরা এখন প্রতীক্ষায় রয়েছেন মহামিলনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে।

চিতলমারী উপজেলায় ৮৫ শতাংশ মানুষ হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে নির্বিঘ্ন ও আনন্দময় করতে উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং স্থানীয়রা এগিয়ে এসেছে।

পূজা উপলক্ষে বলেশ্বর নদীতে নৌকা বাইচ এবং খাসেরহাটে মেলার আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন চিতলমারী প্রেসক্লাব সভাপতি একরামুল হক মুন্সি।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “একটি গ্রামের মধ্যে এমন অভূতপূর্ব হিন্দুধর্মের মিলনমেলাকে ঘিরে চারদিকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের আনন্দে কোনো ব্যাঘাত না ঘটুক, আমরা সে ব্যাপারে সদা তৎপর।”

মন্দিরের প্রধান উপদেষ্টা কালাচাঁদ সিংহ জানান, “এ দেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ পাহাড়ি ও সমতলের মানুষ একসাথে বসবাস করে। শান্তি-সম্প্রীতির এ মিলনক্ষেত্রে সবাই নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্যাপন করবে—এটাই স্বাভাবিক।”

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি সেনা টহল জোরদার করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়েই জেলায় পূজা সম্পন্ন হবে।

এদিকে পূজা উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবর রহমান, অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা ও মঞ্জুর মোর্শেদ স্বপন এলাকায় অবস্থান করছেন এবং নিয়মিত পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পূজার শুভেচ্ছা বার্তাও পাঠিয়েছেন।