বিসিবি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না তামিম ইকবাল

সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, একসাথে সরে দাঁড়ালেন আরও ১৪-১৫ জন প্রার্থী

ঢাকা, ১ অক্টোবর ২০২৫ (বুধবার):
সকাল সোয়া ১০টার দিকে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেই সম্ভাব্য চিত্র স্পষ্ট করে দেন তামিম ইকবাল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন তার উপস্থিতি যেন ইঙ্গিত দিচ্ছিল বড় কোনো সিদ্ধান্তের। কিছুক্ষণ পর তা নিশ্চিতও করলেন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক— বিসিবি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না তিনি।

তামিম একাই নন, বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে আরও ১৪-১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হলে সঠিক সংখ্যা জানা যাবে।

এদিন মনোনয়ন প্রত্যাহার করা এক্মিওম ক্রিকেটার্স কাউন্সিলর ইসরাফিল খসরু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সরকারের একটি গোষ্ঠীর নগ্ন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে তাদের এই সিদ্ধান্ত।
তিনি অভিযোগ করেন,

“বিসিবি নির্বাচনে নগ্ন হস্তক্ষেপ চলছে। নির্বাচনের কোনো পরিবেশ এখানে নেই। স্বেচ্ছাচারিতা করা হচ্ছে। নতুন বাংলাদেশে এই ধরনের কোনো নির্বাচন আমরা চাই না।”

যদিও তামিম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ জানাননি, তবে এর পেছনের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট। কয়েকদিন আগেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, সরকারের একটি অংশ বিসিবি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং তিনি প্রবল চাপ অনুভব করছেন।

গত শনিবার বিসিবিতে সাংবাদিকদের সামনে তামিম বলেন,

“আমার ওপর অনেক চাপ আছে। কালকে আমার কাউন্সিলরশিপ বাতিলও হয়ে যেতে পারে। কেন হতে পারে, সেটা আপনারা ভালো করেই বোঝেন। ফেয়ার ইলেকশন কেন হবে না? সরকারের দায়িত্ব তো সংস্কার করা। কিন্তু যদি সরকারই প্রভাব খাটাতে চায়, তাহলে সেটাই হবে দুঃখজনক।”

তিনি আরও মন্তব্য করেন,

“ক্রিকেট বোর্ডের ইতিহাসে এত নোংরামি কোনোদিন দেখেনি সিনিয়ররা। এই ধরনের হস্তক্ষেপ যদি চলতেই থাকে, তবে তা ইতিহাসে নজিরবিহীন উদাহরণ হয়ে থাকবে।”

শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকতে পারবেন কি না, সেই শঙ্কা আগেই প্রকাশ করেছিলেন তামিম। বুধবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে সেই আশঙ্কা বাস্তব রূপ পেল।