সংস্কার প্রস্তাবে ‘বুদ্ধিভিত্তিক অনাচার’ হয়েছে: সালাউদ্দিন আহমেদ

জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সুপারিশ, গণভোট ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা; নির্বিঘ্ন নির্বাচনের পক্ষে বিএনপি নেতার দাবি

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, কমিশনের আলোচনার সঙ্গে সুপারিশের মিল নেই এবং এখানে “বুদ্ধিভিত্তিক অনাচার” ঘটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের শিক্ষকদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন নয়–দশ মাস আলোচনা চালালেও সুপারিশ তৈরির সময় তা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। “যা আলোচনা হয়েছে, তা বাদ দিয়ে অনেক জায়গায় ভিন্ন সুপারিশ পাঠানো হয়েছে,” মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কমিশনের সুপারিশ রাষ্ট্রপতির অধীনে থাকা প্রধান উপদেষ্টার কাছেই পাঠানো হওয়া একধরনের স্বার্থসংঘাত (Conflict of Interest) তৈরি করেছে। “নিজের সুপারিশ নিজে বিবেচনা করা—এটা জাতির সঙ্গে প্রতারণা,” বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, জাতির ঐক্য সৃষ্টির পরিবর্তে কমিশনের ভূমিকা বিভক্তির উপাদান তৈরি করেছে। “বিভক্ত জাতি নিয়ে রাষ্ট্র চলে না,” মন্তব্য করেন সালাউদ্দিন।


ণভোট ইস্যুতে কঠোর সমালোচনা

জুলাই জাতীয় সনদকে কেন্দ্র করে প্রস্তাবিত গণভোট প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন বলেন, “এতো জটিল প্রশ্ন বানানো হয়েছে যে পিএইচডি করা লোকও পড়ে বুঝতে হিমশিম খাবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবিধানিক অনিশ্চয়তা তৈরি করতে গণভোটকে ব্যবহার করছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাহী আদেশ (অর্ডার) জারির কোনো সাংবিধানিক অধিকার এখন রাষ্ট্রপতির নেই। অতীতের অধ্যাদেশগুলো শুধু ঐতিহাসিক কারণে বহাল আছে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো আদেশের সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
আদালত, সংবিধান ও ১০৬ অনুচ্ছেদ নিয়ে মন্তব্য
তিনি বলেন,

রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের কাছে ১০৬ অনুচ্ছেদে পরামর্শ চেয়েছেন কারণ প্রধানমন্ত্রী পলাতক—অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাভাবিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতির পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব ছিল না।
তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “তাহলে কি দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সই এনে দিতে হতো?”
বর্তমান সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে যে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, তাকে তিনি “নির্বাচন পেছানোর উদ্দেশ্য” বলে আখ্যা দেন।
সরকার যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আন্তরিক—এ বক্তব্যের জন্য তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান।

নির্বাচন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৭ বছরের অপেক্ষার পর জনগণ অবাধ ভোটাধিকার ফিরে পেতে উন্মুখ।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এমন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে হবে যাতে আর কখনো স্বৈরাচারের উত্থান না হয়।”
সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র নির্বাহী বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে স্বৈরাচার ঠেকানো যাবে না। রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গকে সাংবিধানিক সীমারেখার মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে।
তিনি নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ কার্যকর কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।
শেষে সালাউদ্দিন বলেন, “রাষ্ট্রের সব অঙ্গের মধ্যে সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কই স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনের মূল উপাদান।”