ভূমিকম্পে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি—বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার; শিগগিরই গঠিত হবে টাস্কফোর্স

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই; বরং প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে। গত শুক্রবার ও শনিবার কয়েক দফা ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় তারা এসব মতামত দেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞদের আহ্বান জানান, যেন তারা স্বল্পতম সময়ে সরকারের করণীয় বিষয়ে লিখিত পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “আমরা হাত গুটিয়ে রাখতে চাই না, আবার অবৈজ্ঞানিক কোনো পদক্ষেপও নিতে চাই না। আপনারা দ্রুত পরামর্শ দিন; সরকার প্রস্তুত রয়েছে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে।”
তিনি জানান, ভূমিকম্প বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং এক বা একাধিক টাস্কফোর্স গঠনের কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞদের লিখিত মতামত পাওয়া মাত্রই সে অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, দুর্যোগ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, গৃহায়ন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এমআইএসটি, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট অধ্যাপক ও বিজ্ঞানীরা।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ভূমিকম্পকে ঘিরে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে—৪৮ ঘণ্টা, ১০ দিন বা ১ মাসের মধ্যে বড় ভূমিকম্প হবে—এ ধরনের অপতথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তারা বলেন, ভূমিকম্পের সঠিক সময় নির্ধারণ করা অসম্ভব; তবে অতীতের তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সময়সীমা অনুমান করা যায়।
বৈঠকে অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান বলেন, ভূমিকম্পের উৎস ও উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত করে শেকিং লেভেল নিরূপণ করতে হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশ স্বল্প ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা হলেও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকা জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আখতার জনসচেতনতা তৈরিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ইনডোর, আউটডোর, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক—চার স্তরে করণীয় পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন।
চুয়েটের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর মূল্যায়ন জরুরি। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যলয়ে ভূমিকম্পবিষয়ক প্রোগ্রাম চালু করলে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা বাড়বে।
এমআইএসটির অধ্যাপক মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, মানুষের কাছে সহজ ভাষায় করণীয় তুলে ধরা, মাথা ঠান্ডা রাখা এবং বাসাবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মহড়া বাড়ানো প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা, ভবনগুলোর মান এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জানান, ফাটল ধরা ভবন শনাক্তে একটি সফটওয়্যার দিয়ে ইতোমধ্যে দুই শতাধিক ভবনের মূল্যায়ন করা হয়েছে, যার অধিকাংশই পার্টিশন দেয়ালে ফাটল।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে—বিশেষজ্ঞদের লিখিত সুপারিশ নিয়ে সরকার দ্রুত সময়ে আলোচনা করে টাস্কফোর্স গঠন করবে। ভূমিকম্প বিষয়ে সরকারের আশু করণীয় নির্ধারণে সরকারি–বেসরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা ওই টাস্কফোর্সে যুক্ত থাকবেন।