স্টাফ রিপোর্টার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেছেন, “মসজিদে বা ঘরে ঘরে মা–বোনকে বিভ্রান্ত করে বেহেশতের টিকিট দিলে জনগণের সমর্থন পাওয়া যায় না।” তিনি জানান, জনগণের ভালোবাসাই রাজনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি।
রবিবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এক হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আসা বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে ফারুক বলেন, “একজন ৯০ বছরের বৃদ্ধা হাসপাতালে ভর্তি হলে—তিনি বিএনপি নেত্রী বলেই নয়, মানুষ হিসেবেই—যে কেউ দোয়া করে। এটাই মানুষের অন্তরের ভালোবাসা।” তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে কান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে বেগম জিয়াকে বের করে দেওয়ার মুহূর্তে বহু মানুষ আবেগে চোখের পানি ফেলেছিলেন।
বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনকে যারা ব্যাহত করার অপচেষ্টা করছে, তাদের প্রতি অনুরোধ—এমন বক্তব্য দেবেন না, যা জনগণ গ্রহণ করে না। এখন হাসিনা ক্ষমতায় নেই—এ কথা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা না করাই ভালো।”
তিনি আরও বলেন, “যারা রাজপথে ছিলেন, আন্দোলনে ছিলেন—সবার কাছে আহ্বান, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের সরকার। এ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হতে দিন। জনগণের কাছে নতুনভাবে যাওয়ার সুযোগ এসেছে, এ সুযোগের সৎ ব্যবহার করুন।”
অতীতের সহিংসতা ও ব্যক্তিগত ক্ষতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “যারা আমার মায়ের বুক খালি করেছে, যারা আমাদের ওপর নির্যাতন করেছে, যারা আমাদের সম্পদ লুট করেছে—এসব ইতিহাস মনে থাকলেও কারও মন কষ্ট দিতে চাই না।” তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, “ভুল নিজেরাই স্বীকার করা উচিত।”
বিএনপি নেতা কক্সবাজারের কিছু নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, বিভ্রান্তিকর কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এখন গণভোট নয়, নির্বাচনই গণভোট। একই দিনে জনগণ তাদের মতামত জানাবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আর হুন্ডা–গুন্ডা রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাই না। এই সরকারকে সমর্থন দিলে রাজনীতি স্বাভাবিক ধারায় এগোবে।”
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করে ধানের শীষের জোয়ার তুলতেই হবে।”





