তারেক রহমানের ‘শিগগির’ দেশে ফেরার বার্তা, নির্বাচন ঘিরে ফখরুলের হুঁশিয়ারি

তফসিল ঘোষণার আগমুহূর্তে বিএনপির কণ্ঠে নতুন প্রত্যয়

স্টাফ রিপোর্টার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে তারেক রহমানের ‘শিগগির’ দেশে ফেরার আভাস দিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ইঙ্গিত দেন।

তিনি বলেন, “আমাদের নেতা খুব শিগগিরই আমাদের মাঝে আসবেন। যেদিন তিনি বাংলাদেশে পা দেবেন, সেদিন যেন গোটা দেশ কেঁপে ওঠে—এই প্রত্যয় আপনাদের মনে রাখতে হবে।”

দীর্ঘ দেড় যুগ যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপি নেতা তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে কয়েক মাস ধরেই গুঞ্জন চলছিল। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেই আলোচনা নতুন মাত্রা পায়। তবে তারেক নিজেই কিছুদিন আগে বলেন, ফেরার সিদ্ধান্ত এককভাবে তার হাতে নেই। এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, তার ফেরার বিষয়ে সরকারের কোনো আপত্তি নেই।

‘নির্বাচনের লড়াইয়ে জয়ী হতে হবে’

কর্মশালায় মির্জা ফখরুল বলেন, “এখন সংগ্রাম হচ্ছে এই নির্বাচনে জয় লাভের সংগ্রাম। আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। বিএনপি কখনও পরাজিত হয়নি, হবেও না। এই লড়াই আমাদের ভবিষ্যৎ রচনার লড়াই।”

তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল, মুক্তিযুদ্ধের দল এবং গণতন্ত্রের সংগ্রামের দল। আমাদের মধ্যে ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য ও চেতনা থাকতে হবে—জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাস রাখতে হবে।”

‘একাত্তর আমাদের অস্তিত্ব’

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “একাত্তর আমাদের অস্তিত্ব। আজকে কিছু মানুষ কিভাবে এই প্রজন্মকে নিকৃষ্ট বলে আখ্যায়িত করে? তাদের সেই ঔদ্ধত্যকে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

‘অপশক্তি ও বিভ্রান্তি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে’

সরকারের বিরুদ্ধে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন, “পেছন থেকে যেন নতুন এক ফ্যাসিজম আমাদের চেপে বসতে না পারে। আমাদের ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এই অপশক্তিকে রুখতে হবে।”

তিনি বলেন, “এই লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান প্রতিষ্ঠার লড়াইও বটে। ইতিবাচক রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের সামনে আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে।”

কর্মশালায় দেশ গঠনের রূপরেখা

বিএনপি’র চলমান কর্মসূচি ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’তে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। এতে সভাপতিত্ব করছেন রুহুল কবির রিজভী, সঞ্চালনায় আছেন হাবিব উন নবী খান সোহেল।

ফখরুল বলেন, “এই কর্মশালার আলোচনা শুধু শোনা ও নোট করার জন্য নয়—জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। তাহলেই জনগণ আকৃষ্ট হবে এবং আপনাদের পাশে দাঁড়াবে।”

তিনি সকলকে আহ্বান জানান, দেশের জন্য এই সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া করার।