কঠিন সময়ের সতর্কবার্তা ও ঐক্যের আহ্বান তারেক রহমানের

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে লন্ডনে বিএনপির আলোচনা সভায় প্রবাসীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

স্টাফ রিপোর্টার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়নে লন্ডন বিএনপির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশ ও জাতির চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি এক বছর আগে আপনাদের বলেছিলাম সামনে আমাদের কঠিন সময় আসছে। ষড়যন্ত্র থেমে নেই এবং এই নির্বাচনও সহজ নয়। আপনারা অনেকেই এখন বিষয়টি বুঝতে পারছেন। এক বছর আগে যা বলেছি, সেটাই আজ বাস্তবে ঘটছে।”

তিনি আরও বলেন, “এখন আবারও বলছি—সামনের সময় খুব সুবিধার নয়। কাজেই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

লন্ডন প্যাভিলিয়ন হলভর্তি প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আপনারা কি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবেন?” প্রবাসীরা একযোগে উচ্চকণ্ঠে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিলে তিনি বলেন, “ঐক্যবদ্ধ থাকলেই আমরা আমাদের দেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবো। ঐক্যবদ্ধ থাকলেই আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।”

যুক্তরাজ্যের উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, “এই ব্রিটেনে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা আছে বলেই মানুষ তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না। বাংলাদেশের মানুষ বহু যুগ ধরে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কাজেই সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে হলে আমাদের যে কোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ না থাকার কোনো বিকল্প নেই। ‘ইউনাইটেড উই স্ট্যান্ড, ডিভাইডেড উই ফল’—এই কথাটি আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে।”

উল্লেখ্য, ১/১১–এর সেনাসমর্থিত সরকারের সময় ২০০৭ সালে তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। কারা হেফাজতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উচ্চ আদালতের জামিনে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে লন্ডনে যান তিনি। দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।

প্রবাসীদের সঙ্গে বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানটি একদিকে যেমন বিজয় দিবসের আলোচনা সভা, অন্যদিকে তেমনি ছিল তারেক রহমানের বিদায় অনুষ্ঠান। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বিদায়ের কথা উল্লেখ করেন এবং প্রবাসীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্যাভিলিয়ন হল তিল পরিমাণ জায়গা না থাকলেও পুরো সময়জুড়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তিনি বিভিন্ন সময় নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

‘আমি দেশে ফিরে যাচ্ছি, সকলের দোয়া চাই’

তারেক রহমান বলেন, “২৫ তারিখে ইনশাআল্লাহ আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে আমি দেশে ফিরে যাব। সকলের কাছে দোয়া চাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমাকে সেই তৌফিক দেন—দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যে পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।”

‘কেউ হিথ্রো এয়ারপোর্টে যাবেন না’

তিনি বলেন, “আমি একটি বিনীত অনুরোধ করতে চাই। ১৮ বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। আপনাদের সহযোগিতা, সমর্থন ও সাহস আমাকে বারবার শক্তি দিয়েছে। কিন্তু ২৫ তারিখে কেউ দয়া করে এয়ারপোর্টে যাবেন না।”

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “এয়ারপোর্টে গেলে হট্টগোল তৈরি হবে। এতে দেশের ও দলের সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে। যারা আমার এই অনুরোধ রাখবেন, আমি ধরে নেব তারা দল ও দেশের সম্মানকে প্রাধান্য দেন। আর যারা অনুরোধ অমান্য করবেন, আমি ধরে নিতে বাধ্য হব তারা ব্যক্তিগত স্বার্থে সেখানে গিয়েছেন।”

বক্তব্যের শেষে দেড় মিনিটের একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়, যেখানে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন তুলে ধরা হয়।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বাংলাদেশকে একটি সুখী ও কল্যাণকর রাষ্ট্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে তার ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ তুলে ধরেন। এতে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, হেলথ কার্ড, বেকার সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

‘এ নির্বাচন কোনো এক্সপেরিমেন্ট নয়’

তিনি বলেন, “এই নির্বাচন কোনো এক্সপেরিমেন্ট বা অভিজ্ঞতার বিষয় নয়। এটি একটি পরিবর্তনের সুযোগ। আমাদের এই সুযোগ সৎভাবে কাজে লাগাতে হবে। যদি আমরা এবার দেশকে পরিবর্তন করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রবাসীরা যেভাবে আন্দোলনে সহযোগিতা করেছেন, ঠিক একইভাবে সামনে তাদের বড় দায়িত্ব হলো—সঠিক দলকে নির্বাচিত করতে সহযোগিতা করা, যে দল সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে পারবে।”

প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

তারেক রহমান বলেন, “স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে প্রবাসীদের অবদান অসামান্য। প্রবাস থেকে আপনারা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাতে এই আন্দোলন সফল হয়েছে। প্রবাসীদের এই অবদান কোনোভাবেই খাটো করে দেখা যায় না।”

একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে তার দল আগামী সরকার গঠন করবে—ইনশাআল্লাহ।