মুক্তিযুদ্ধ বিকৃত করলে জনগণ ক্ষমা করবে না: ইশরাক

ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থীর হুঁশিয়ারি, ইতিহাস বিকৃতির রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করবে জনগণ

স্টাফ রিপোর্টার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।

ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, যে রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃত করবে, দেশের জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। আগামী নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমেই তার প্রমাণ দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওয়ারীতে জিয়া শিশু কিশোর মেলার উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এসে যারা স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই—১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় দিবস পালন করে আসছি এবং জন্মের পর থেকেই ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালন করছি। এই ইতিহাস অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আজ যে কোনো রাজনৈতিক দল যদি আমাদের স্বাধীনতা, বিজয় এবং মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাহলে আমাদের ইতিহাসের পাতায় ফিরে তাকানো উচিত। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চালানো গণহত্যা কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না—এটি চিরন্তন সত্য।

ইশরাক হোসেন আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি বিভক্ত বাংলাদেশ থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও বিভাজনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন। তাঁর উদার নেতৃত্বেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক উপায়ে রাজনীতি করার সুযোগ ফিরে পেয়েছিল।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ভুল। একসময় আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। কিন্তু তাই বলে কি বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি? ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী, আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকারদের ভূমিকা কি ইতিহাসে নেই? সে সময়কার পত্রপত্রিকা ও দলিলপত্র আজও সেই সত্যের সাক্ষ্য দেয়।

ইশরাক হোসেন বলেন, যারা পচা গলা রাজনীতির কথা বলে রাজনীতি করছে, তারাই প্রকৃতপক্ষে ভণ্ডামির ধারক। শিশুদের ভুল ইতিহাস শেখিয়ে, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাজনীতি করতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না। আগামী নির্বাচনে মানুষ ব্যালটের মাধ্যমেই এর জবাব দেবে।

তিনি আরও বলেন, ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। মিত্রবাহিনীতে ভারতের ইস্টার্ন কমান্ডের সেনাপতি জেনারেল অরোরা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম.এ.জি. ওসমানীর নেতৃত্ব ছিল। এতে বাংলাদেশের বিজয় কোনোভাবেই ম্লান হয়নি। আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি—এটাই চূড়ান্ত সত্য।

ইশরাক হোসেন বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের কাছেই আত্মসমর্পণ করেছিল। ভারত মুক্তিবাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল, তবে সেই সহযোগিতা না পেলেও বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হতো এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হতো— এ বিষয়ে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কে.এস. হোসেন টমাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ারী থানা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী, কাজী আবুল বাসার, জাহাঙ্গীর শিকদার, ওয়ারী থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রহিম ভূঁইয়া, জাসাস নেতা শিবা শানু, ৩৮ নং ওয়ার্ড সভাপতি মনা ও সাধারণ সম্পাদক শহীদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী।