২৭ডিসেম্বর ভোটার হবেন তারেক রহমান

মনোনয়নপত্রে মামলার তথ্য, ব্যাংক হিসাব ও ‘অভিযুক্ত’ শব্দের ব্যাখ্যা স্পষ্ট করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।

নির্বাচনকালীন সময়সূচি অনুযায়ী ২৫ তারিখ বৃহস্পতিবার, ২৬ তারিখ শুক্রবার এবং ২৭ তারিখ শনিবার। এই সময়ে নির্বাচন কমিশনের সব অফিস খোলা থাকবে এবং ২৭ তারিখেই ভোটার হওয়া, ভোটার আইডি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সরকারের ওপর ন্যস্ত থাকলেও, নির্বাচন কমিশন যেভাবে চাইবে সেভাবেই কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রশাসনিক কাজে নির্বাচন কমিশনের কিছু এখতিয়ার থাকলেও, প্রাথমিকভাবে সার্বিক দায়িত্ব সরকারের—এমনটাই বলা হয়। এ প্রেক্ষিতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। সরকারকে এ বিষয়ে আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে জনগণ এবার উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাধীন ও মুক্তভাবে ভোট দিতে পারবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমোন্নতির আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়।

মনোনয়নপ্রার্থীদের কাছ থেকে কিছু অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। বিশেষ করে ফৌজদারি মামলায় জামিনে মুক্ত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অর্ডারশিটের সার্টিফায়েড কপি চাওয়ার বিধান আরপিও’র (RPO) মূল আইনে নেই বলে জানানো হয়। আরপিও’র ১২ অনুচ্ছেদে কেবল মামলার তথ্য দেওয়ার কথা বলা আছে—অর্থাৎ কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে তার তথ্য দিলেই যথেষ্ট। জামিননামা বা অর্ডারশিটের সার্টিফায়েড কপি দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

এছাড়া, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে বহু প্রার্থী, সাধারণ জনগণ এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে শত শত ‘গায়েবি মামলা’ দায়ের করা হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোর খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি। সে কারণে মনোনয়নপত্রে শুধু আরপিও অনুযায়ী মামলার তালিকা দিলেই যেন যথেষ্ট ধরা হয় এবং অতিরিক্ত কাগজপত্র না চাওয়া হয়—এই দাবি জানানো হয়েছে।

‘অভিযুক্ত’ শব্দটির ব্যাখ্যা নিয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। আইনের ভাষায় ‘অভিযুক্ত’ বলতে আদালত কর্তৃক অভিযোগ গঠন (Framing of Charge) বোঝায়। কেবল এফআইআর বা অভিযোগ দায়ের হলেই কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হলে হাজার হাজার মামলার জট তৈরি হবে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে বলে জানানো হয়।

আরেকটি বিষয় হলো নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংক হিসাব খোলা। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রার্থী বা নির্বাচনী এজেন্টকে একটি ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে। তবে বাস্তবতা অনুযায়ী প্রথমে প্রার্থীই ব্যাংক হিসাব খুলবেন, কারণ নির্বাচনী চিফ এজেন্ট বা এজেন্ট নিয়োগের বিষয়টি জানুয়ারির ২০–২১ তারিখের দিকে চূড়ান্ত হবে। তাই নির্দেশনার ভাষা সংশোধন করে ‘প্রার্থী অথবা নির্বাচনী এজেন্ট’ লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছে ।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৯ তারিখ হওয়ায় সময়ের স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে এসব বিষয় দ্রুত স্পষ্ট করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।